ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ‘গঠনমূলক’, পরবর্তী বৈঠক হবে ১ ফেব্রুয়ারি

রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক গত শুক্রবার শুরু হয়। গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনেও আলোচনা চলেছবি: রয়টার্স

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে গতকাল শনিবার দুই দিনের এ বৈঠক শেষ হয়েছে। পরবর্তী বৈঠক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আবুধাবিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। আলোচনার জন্য রাশিয়াও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে মস্কো।

এদিকে এ আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। চলতি শীত মৌসুমে এটাই সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক গত শুক্রবার শুরু হয়। গতকাল দ্বিতীয় দিনেও আলোচনা চলে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এই তিন দেশের বৈঠক এটাই প্রথম।

আবুধাবির বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ আলোচনা ছিল গঠনমূলক।

জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে, আলোচনায় সে কাঠামোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য পরবর্তী বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন সামরিক প্রতিনিধিরা।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের সঙ্গে আরও আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি সূত্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে জানিয়েছে, আবুধাবির বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সূত্রটি বিস্তারিত কিছু বলেনি।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজক দেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক পরিবেশে’ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি প্রস্তাবের ‘অমীমাংসিত বিষয়গুলোর’ ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরের ধাপের আলোচনা আগামী রোববার আবুধাবিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। আলোচনা শেষে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে আমরা যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ দেখেছি। কারণ, তাঁরা সত্যিই একটি সমাধানের পথ খুঁজছিলেন।’

ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টির খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আগামী রোববার আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমরা এই চুক্তির উদ্যোগকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

ইউক্রেনে জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা

এদিকে এ আলোচনার মধ্যেই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল ভোরে এসব হামলা চালানো হয়। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। হামলার কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যে বিপাকে পড়েন বাসিন্দারা।

সকালে রাজধানীতে প্রায় ছয় হাজার ভবন গরম রাখার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি। এর আগে চালানো হামলায় শহরের কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক বাসিন্দার অ্যাপার্টমেন্ট আগে থেকেই ঠান্ডায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো বলেন, হামলায় রাজধানীতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে এক শিশুসহ ১৯ জন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর চালানো হামলায় ৩৭৫টি ড্রোন ও ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে দুটি হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। শব্দের গতির চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি গতির এ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে হামলায় সচরাচর ব্যবহার করে না রাশিয়া।

এদিকে গতকাল খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া প্রশাসনিক প্রধান ভ্লাদিমির সালদো বলেছেন, হোলা প্রিস্তান শহরের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।