প্রকাশ্যে এলেন লাভরভ, বললেন রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। আজ রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লাভরভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতায় নিজেদের প্রধান শর্তগুলো নিয়ে রাশিয়া কোনো আপস করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এ পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক গত মাসে হঠাৎ করেই স্থগিত করেন ট্রাম্প।
এই বৈঠকের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ করেন লাভরভ। এই আলাপের পরপরই ওয়াশিংটন বুদাপেস্টে ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এরপর গত বুধবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে লাভরভকে দেখা যায়নি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পুতিন।
গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে লাভরভের অনুপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয়। বলা হয়, পুতিন হয়তো লাভরভকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তিনি বুদাপেস্টে ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক দিন লাভরভকে তেমন প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
তবে গত শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের এসব গুঞ্জন সঠিক নয় দাবি করে বলেন, লাভরভ নিজ পদে বহাল আছেন। এমন একটা প্রেক্ষাপটে রোববার আরআইএ নভোস্তিকে সাক্ষাৎকার দেন লাভরভ।
‘সরাসরি বৈঠকে প্রস্তুত’
এই সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তা বুঝি।’ ২০০৪ সাল থেকে পুতিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালনকারী এই ঝানু রুশ কূটনীতিক বলেন, ‘সরাসরি বৈঠক ইউক্রেন ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে আমরা টেলিফোনে যোগাযোগ রাখি এবং প্রয়োজন হলে আমি তাঁর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতেও প্রস্তুত।’
প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এরপর এখন পর্যন্ত রুশ সেনারা ইউক্রেনের প্রায় ১৯ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছেন। মস্কোর দাবি, এসব ভূখণ্ড বৈধভাবে রাশিয়ার হয়ে গেছে। কিন্তু ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা বারবার বলে আসছেন, তারা মস্কোর এই দাবি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেবে না।
আলাস্কা সমঝোতা
লাভরভ বলেন, গত ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের বৈঠকে পুতিন-ট্রাম্প একটি ‘সমঝোতায়’ পৌঁছেছিলেন। পুতিনের ২০২৪ সালের জুনে প্রকাশ করা আনুষ্ঠানিক দাবি এবং ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের মতামতের ভিত্তিতেই ওই সমঝোতা হয়েছিল।
লাভরভ বলেন, ‘অ্যাঙ্কোরেজের “সমঝোতাগুলো”কার্যকর আছে কি না, তা আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
৭৫ বছর বয়সী এই কূটনীতিক দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে দেখলে ‘রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ক্রিমিয়া, দনবাস ও নভোরোসিয়ার বাসিন্দাদের তাঁদের “ঐতিহাসিক মাতৃভূমির” সঙ্গে পুনর্মিলনের সিদ্ধান্তের বিষয়েও কারও কোনো প্রশ্ন নেই।’
রুশ নাগরিকেরা নোভোরোসিয়া বলতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বোঝান, যা আঠারো ও উনিশ শতকে জারের সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। একই সঙ্গে নোভোরোসিয়া বলতে এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আন্দোলনকেও বোঝানো হয়।
লাভরভ আরআইএ নভোস্তিকে বলেন, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মস্কোকে জানিয়েছে, তারা কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তির (নিউ স্টার্ট) বাধ্যবাধকতা বহাল রাখার বিষয়ে পুতিনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।