গৃহসজ্জার দোকানে হঠাৎ হাজির বুনো শূকর

জার্মানির বার্লিনে একটি শপিং মলের গৃহসজ্জা ও তৈজসপত্রের দোকানে হঠাৎ হাজির হয় একটি বুনো শূকরছবি: এএফপি

শুক্রবারের সকাল। জার্মানির বার্লিনে একটি শপিং মলের গৃহসজ্জা ও তৈজসপত্রের দোকানে ক্রেতার অপেক্ষায় দোকানিরা। হঠাৎ সেখানে হাজির একটি বুনো শূকর। দোকানে ঢুকেই প্রাণীটি তার স্বভাবসুলভ আচরণ শুরু করে! ভয়ে কর্মীরা দ্রুত দোকান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

শূকরটি দোকানের ভেতর ছোটাছুটি শুরু করে, এখানে–সেখানে গুঁতো দিতে শুরু করে। এক তাক থেকে জিনিসপত্র ফেলে দেয় তো অন্য তাক উল্টে ফেলে...। কিছুতেই প্রাণীটিকে দোকান থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষে ডাকা হয় পুলিশ।

পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন প্রাণিবিশেষজ্ঞরাও। প্রাণীটিকে ধরতে রীতিমতো ‘যুদ্ধের সাজে’ তাঁরা আসেন। তাঁরা সঙ্গে আনেন অ্যানেস্থেটিক গান (এটি ব্যবহার করে প্রাণীকে অসাড় বা অচেতন করার জন্য ইনজেকশন দেওয়া হয়), কাঠের ঢাল ও ব্লো গান।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁদের এসব কিছু ব্যবহার করতে হয়নি; বরং শান্তিপূর্ণভাবেই সংকটের সমাধান হয়েছে।

পরে পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে তাঁদের কাছে খবর আসে, একটি বুনো শূকর একটি দোকানে ঢুকেছে। একটি স্লাইডিং কাচের দরজা গলে সেটি মলে ঢুকে পড়ে। এরপর গৃহসজ্জা ও তৈজসপত্রের একটি দোকানে ঢুকে জিনসপত্র তছনছ করতে থাকে।

বার্লিনের টিয়েরপার্ক চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলে, বুনো শূকর দোকানে ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে তারা তাদের একটি দলকে দ্রুত দক্ষিণ-পূর্ব কোপেনিক জেলায় পাঠান। দলটি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, দোকানের নকশার কারণে প্রাণীটিকে সেখানে অচেতন করা সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় পুলিশ ও চিড়িয়াখানা থেকে আসা দলটি সিদ্ধান্ত নেয়, কাঠের পাটাতন পেতে যদি একটি পথ তৈরি করে শূকরটিকে দোকান থেকে বের করা যায়, সেটিই সবচেয়ে ভালো উপায় হবে। তারা সে অনুযায়ী কাজ করে এবং শূকরটিকে দোকান থেকে বের করতে সক্ষম হয়।

শূকরটি দোকান থেকে বের হয়ে জঙ্গলে চলে যায়। পুলিশ জানায়, ‘আমরা ধরে নিয়েছি, প্রাণীটি যেখান থেকে এসেছিল, সেখানেই ফিরে গেছে।’