ডেনমার্কের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল হার্ড লাইনের নেতা রাসমুস পালুদান তুরস্কের দূতাবাসের সামনে পবিত্র কোরআনে আগুন দিয়েছেন। এর আগে গত বছর এপ্রিলে পালুদান ঘোষণা দেন মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানে তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পবিত্র কোরআন পোড়াবেন। তাঁর এ ঘোষণায় সুইডেনজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়েছিল।

দূতাবাসের সামনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন পালুদান। এ সময় পুলিশ তাঁকে ঘিরে রাখে। এক ঘণ্টার বক্তব্যে পালুদান ইসলাম ধর্ম ও সুইডেনে অভিবাসন নিয়ে আক্রমণাত্মক কথা বলেন। পাল্টা বিক্ষোভ করতে তখন দূতাবাসের পাশে প্রায় ১০০ মানুষ সমবেত হন।

সেই বক্তব্যের একপর্যায়ে পালুদান বলেন, ‘আপনি যদি মনে না করেন যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত, তাহলে আপনাকে অন্য কোথাও বসবাস করতে হবে।’
এ ঘটনার পরপরই তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘আমাদের পবিত্র গ্রন্থের ওপর আক্রমণের মতো জঘন্য ঘটনার সম্ভাব্য কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে মুসলিমদের ও আমাদের পবিত্র মূল্যবোধের অবমাননাকারী ইসলামবিরোধী কাজের অনুমতি দেওয়া সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।’

প্রকাশ্যে কোরআন শরিফ পোড়ানোর মতো এ ধরনের ধর্মবিরোধী কাজ নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু। তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর এ ঘটনা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, এটা একটা বর্ণবিরোধী কাজ।’

তুরস্ক ছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান ও কুয়েতের মতো আরও কয়েকটি আরব দেশ সুইডেনে কোরআন শরিফ পোড়ানোর এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব আলোচনা, পরমতসহিষ্ণুতার মতো মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ঘৃণা ও চরমপন্থা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাচ্ছে।

সুইডেনে তুর্কি দূতাবাসের সামনে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর এ ঘটনার প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ হচ্ছে। গতকাল শনিবার আঙ্কারায় সুইডেনের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়। এ ছাড়া এদিন সন্ধ্যায় তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোবিয়াস বিলস্ত্রম ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক এ ঘটনাকে ‘সাংঘাতিক ও ভয়ংকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘সুইডেনে সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এ ঘটনাকে আমি অথবা সুইডেনের সরকার সমর্থন দেবে।’