পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিবিসির পারসি সংস্করণের সংবাদকর্মী রানা রহিমপুর বলেছেন, এভিন কারাগারের পরিস্থিতির সঙ্গে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তবে তিনি মনে করেন, দুটো ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ, শত শত বিক্ষোভকারীকেও এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে।

অবশ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এ দুটি ঘটনা সম্পর্কিত নয়। ইরানের এক কর্মকর্তা আগুনের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।

ইরানের সরকারবিরোধী পর্যবেক্ষক সংস্থা ফিফটিন হান্ড্রেড তাসভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে দেখা গেছে, কারাগারের বাইরে থেকে ‘স্বৈরশাসক নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

বিবিসি পার্সিয়ান বলছে, আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাগারের বাইরে থেকে ভেতরের দিকে কিছু বস্তু ছোড়া হচ্ছে। এরপর সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, ফৌজদারি অপরাধে আটক থাকা বন্দীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক বন্দী জড়িত ছিলেন না। ইরানি সংবাদমাধ্যম আটজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।

কারাগারের ভেতর থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের গভর্নর বলেন, কারাগারের একটি শাখায় সংঘর্ষ হয়েছে। সে শাখায় ছোটখাটো অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখা হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত, বলেন তিনি।

তবে বিবিসি পার্সিয়ানের সংবাদকর্মী কাসরা নাজি বলেছেন, কারাগারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। কারণ, গভর্নরের বক্তব্যের পরও কারাগারে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

বন্দীদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা বিবিসিকে বলেছেন, তাঁরা ফোনে তাঁদের স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সাধারণত স্বজনেরা বন্দীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে থাকেন। কারাগারের চারপাশে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। কারাগারটিতে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, দাঙ্গা দমনকারী পুলিশ এভিনে প্রবেশ করছে। ওই এলাকায় বিশেষ বাহিনী মোতায়েনেরও খবর পাওয়া গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সও দেখেছেন তাঁরা।

পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এভিন কারাগারের সমালোচনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, সেখানকার কর্তৃপক্ষ নির্যাতন ও অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে আটকে রাখার হুমকি দেন। তা ছাড়া বন্দীদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হয় না।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক নাজানিন জাঘারি র‌্যাটক্লিফ এবং আনুশেহ আশুরি কয়েক বছর ধরে ওই কারাগারে আটক ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁরা দুজনই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।