ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন তাঁরই সাবেক উপদেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা গ্যারি কোনছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হওয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এবারের আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গ্রিনল্যান্ড। উত্তর মেরুর এই বিশাল ভূখণ্ডটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী অবস্থানের মধ্যেই মুখ খুলেছেন তাঁর সাবেক শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কোন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন না, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডই থাকবে।

বর্তমানে প্রযুক্তি জায়ান্ট আইবিএমের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত গ্যারি কোন বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক ছিলেন তিনি।

গ্যারি সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোর সদস্যভুক্ত একটি স্বাধীন দেশে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালালে তা হবে মারাত্মক ‘সীমা লঙ্ঘন’।

গ্যারি কোনের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক সময় যা চান, তার চেয়ে অনেক বেশি দাবি করেন, যাতে শেষ পর্যন্ত একটি সুবিধাজনক সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। হতে পারে তিনি আসলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সেখানকার বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিকাশে অপরিহার্য। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ এই নেতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে খনিজ সম্পদ ক্রয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গায়ার স্টোরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করেন এবং বলেন, তিনি আর ‘শান্তি’ বজায় রাখতে বাধ্য নন।

তবে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ডকে একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছেন। গোলার্ধের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। এর সঙ্গে নোবেলের কোনো সম্পর্ক নেই।