নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে চার নারীকে ধর্ষণসহ বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এক বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত চলার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গত সোমবার নরওয়ের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি এ তথ্য দিয়েছেন।
২৮ বছর বয়সী মারিয়াস বোর্গ হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে। অসলোর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্টুরলা হেনরিক্সবো সোমবার বলেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে হোইবিকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে হবে। গুরুতর অভিযোগগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
হোইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচার কাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
নিজের মক্কেল সম্পর্কে সেকুলিচ বলেন, ‘ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতা–সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সঙ্গে তিনি একমত নন।’
কৌঁসুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩২টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। চারটি ধর্ষণের ঘটনার কোনো কোনোটি তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছিলেন।
কৌঁসুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩২টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। চারটি ধর্ষণের ঘটনার কোনো কোনোটি তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছিলেন।
হেনরিক্সবোর ধারণা, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিচার কাজ শুরু হতে পারে। তা প্রায় ছয় সপ্তাহ চলবে।
রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই মামলার শুনানি করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আদালতের দায়িত্ব।’
কৌঁসুলি বলেছেন, রাজপরিবারের সদস্য হলেও তিনি ছাড় পাবেন না। অন্য সাধারণ মানুষদের মতোই তাঁর বিচার করা হবে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ হোইবিকে এক সপ্তাহ আটক রেখেছিল।
হোইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচার কাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
গত বছরের আগস্টে হোইবির বিরুদ্ধে একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নোরা হাউকল্যান্ড নামের ওই নারীর সঙ্গে এক সময় হোইবি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। নোরা হলেন হোইবির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ হওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী। অন্যদের নাম জানা যায়নি।
কৌঁসুলি বলেছেন, নোরার ওপর হাইবি নানাভাবে অত্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে মুখে ঘুষি মারা, গলা চেপে ধরা, লাথি মারা এবং শক্তভাবে ধরে রাখা।
হোইবি তখন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি কোকেন এবং মদপান করে ওই নারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন এবং তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষতি করেছেন। তিনি তখন তাঁর কাজের জন্য অনুতপ্ত থাকার কথাও বলেছিলেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোইবি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ২০২৩ সালে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
গত বছর জানা যায়, হোইবিকে ২০১৭ সালে একটি সংগীত উৎসবে কোকেন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।