যুদ্ধের মধ্যেও অস্ত্র ব্যবসায় ভাটার টান

২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০০টি অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থা উৎপাদন বাড়িয়েছে
ছবি: রয়টার্স

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে প্রচুর অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে। এরপরও অস্ত্রের বাজারের উন্নতি হচ্ছে না। যুদ্ধের মধ্যে মার খাচ্ছে ব্যবসা। ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০০টি অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থা উৎপাদন বাড়িয়েছে। কিন্তু উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে। সম্প্রতি সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) এসব কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকে অস্ত্র উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি কমতে শুরু করেছিল। কারণ, অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সময় মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও অস্ত্র উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি হয়নি। কোভিডের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে এ হার বেড়েছে।

সিপ্রি বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোতে অস্ত্রের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় কাঁচামালের সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও অস্ত্রের উৎপাদন কম হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় সেনাবাহিনীর সংস্কার–সংক্রান্ত যে পদক্ষেপগুলো নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা-ও সমস্যার মুখে পড়তে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকা ইউক্রেনের জন্য কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ করছে অস্ত্র এবং গোলা বারুদ কেনার জন্য। কিন্তু চাহিদা মতো অস্ত্র মিলছে না বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আসে রাশিয়ার কাছ থেকে। ইউরোপ ও আমেরিকা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেই কাঁচামাল হাতে আসছে না। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবসা সামান্য বাড়লেও সমস্যার মুখোমুখি হয় তারাও। নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুঘটক বা সেমি কনডাক্টর তারা জোগাড় করতে পারছে না। কাঁচামাল ও অস্ত্র বিক্রির দাম পেতেও তাদের অসুবিধা হচ্ছে। কোভিডের সময় থেকেই অস্ত্রের বাজারে মন্দা শুরু হয়েছিল।

কাঁচামাল সরবরাহ সমস্যার কারণেই সে সময় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, ২০২১ সালে অস্ত্রের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তা হতে পারেনি। বিশ্বের প্রথম ১০০টি অস্ত্র কোম্পানির মধ্যে ৪০টি আমেরিকায়। অস্ত্র ব্যবসার অর্ধেকের বেশি তারা নিয়ন্ত্রণ করে। এ মুহূর্তে পুরো বিশ্বে বৈধ অস্ত্র ব্যবসার মোট মূল্য ৫৯২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু মার্কিন কোম্পানিগুলোর শেয়ার ২৯৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল থেকে আমেরিকায় অস্ত্রের ব্যবসার পতন হয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। ইউরোপের কোম্পানিগুলোর মোট অস্ত্র ব্যবসার শেয়ার ১২৩ বিলিয়ন ডলার। গত দুই বছরে সেখানে অস্ত্র ব্যবসা বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়ার অস্ত্র কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ার ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। ব্যবসা বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে খেয়াল রাখতে হবে চীনের মোট অস্ত্র ব্যবসার পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্বের একাধিক দেশে অস্ত্র বিক্রি করে চীন।