ইউক্রেনের জনগণের সাহসিকতার প্রশংসা করে সুনাক বলেন, ‘আজ আপনাদের দেশে এসে আপনাদের সঙ্গে একত্র হতে পেরে গভীরভাবে বিনীত বোধ করছি। ইউক্রেনের জনগণ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। ভবিষ্যতে আমরা আমাদের নাতি-নাতনিদের আপনাদের গল্প শোনাব।’

সুনাক আরও বলেন, কীভাবে গৌরবান্বিত ও সার্বভৌম এক জাতি তাদের ওপর হওয়া ভয়ংকর আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আপনারা কীভাবে লড়াই করেছেন, কীভাবে আত্মনিবেদন করেছেন, কীভাবে নিজেরা লড়াই করে জিতেছেন-সে গল্প শোনাব।’  

সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি সুনাকের সফরকে দুই দেশের জন্য কার্যকর ও গঠনমূলক উল্লেখ করে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় এবং ইউক্রেনীয় জ্বালানি নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিজেদের আকাশকে সুরক্ষিত রাখতে ইউক্রেনীয়দের সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সুনাকের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে।

টুইটার পোস্টেও জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনাদের মতো বন্ধুদের পাশে পেয়ে আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি।’

চলমান রুশ অভিযানে ইউক্রেনের জ্বালানিব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই অচল হয়ে পড়েছে। এতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত মাস থেকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভ বলছে, রাশিয়া ইউক্রেনে ইরানের তৈরি ড্রোনও ব্যবহার করছে। এমন অবস্থায় পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চাইছে ইউক্রেন।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে। দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের এলাকাগুলোর পুনর্দখল নিতে পেরেছে তারা। রুশ বাহিনী খেরসন শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রায় আট মাস পর গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরটি পুনর্দখল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনী তাদের আপদকালীন মজুত সেনাদের তলব করতে বাধ্য হয়েছে।

ঋষি সুনাক গত মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর পূর্বসূরি লিজ ট্রাস এবং বরিস জনসন—দুজনই ইউক্রেনের জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের পথ ধরে সুনাকও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন।