রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ছবি: এএফপি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ৮০ বছর পর রাশিয়া আবারও জার্মানির ট্যাংকের মুখোমুখি হচ্ছে। স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধ শেষের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া ভাষণে এমন কথা বলেন তিনি। খবর বিবিসির।

এখন থেকে ৮০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্তালিনগ্রাদ শহরে জার্মান নাৎসি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন সোভিয়েত সেনারা। এটি স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে প্রায় ৯১ হাজার জার্মান সেনাকে আটক করেছিল সোভিয়েত বাহিনী।

স্তালিনগ্রাদের বর্তমান নাম ভলগোগ্রাদ, অবস্থান রাশিয়ায়। সেখানে বৃহস্পতিবার উপস্থিত ছিলেন পুতিন। তিনি বলেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। জার্মানির লেপার্ড ট্যাংকের মাধ্যমে আবারও রাশিয়াকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু থেকেই কিয়েভকে নানা সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। এরই মধ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ট্যাংক দিতে রাজি হয়েছে। বলা চলে জার্মানির কথা। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে নিজেদের তৈরি লেপার্ড ট্যাংক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন।

এদিকে ভাষণের একপর্যায়ে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘যারা যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে হারানোর আশা করছে, তারা হয়তো জানে না, রাশিয়ার সঙ্গে আধুনিক যুগের যুদ্ধ তাদের জন্য অনেক ভিন্ন হবে। আমরা আমাদের ট্যাংকগুলো তাদের সীমান্তে পাঠাচ্ছি না। তবে জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের হাতে আরও উপায় আছে। আমরা শুধু সাঁজোয়া যুদ্ধাস্ত্রগুলো ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না। এটা সবার বোঝা উচিত।’

পুতিনের এই বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের কাছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। এটুকু বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেহেতু একত্রিত হয়ে ইউক্রেনকে নতুন নতুন অস্ত্র দিচ্ছে, তাই এর জবাবে রাশিয়া নিজেদের শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর সর্বোচ্চ কাজে লাগাবে।