৬ অক্টোবর ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারের নেতৃত্বাধীন একটি দল রাশিয়া সফর করে। এ সফরে রাশিয়াকে ড্রোন ও নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার এ প্রতিশ্রুতি দেয় দলটি। ইরানের সফরকারী দলে দেশটির শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সফরকারী দলে থাকা ইরানের এক শীর্ষ কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়া আরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চায়। বিশেষ করে ফাতেহ ও জুলফাগার ক্ষেপণাস্ত্র চায় রাশিয়া।

আর পাশ্চাত্যের এক কর্মকর্তা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন ও জুলফাগার ছাড়াও ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।

ইরান যে ড্রোনগুলো সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো শহীদ-১৩৬ ‘কামিকাজে’ ক্ষেপণাস্ত্র। আর ফাতেহ-১১০ ও জুলফাগার ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এ ধরনের সরবরাহ ২০১৫ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হয়েছে বলে পাশ্চাত্যের কর্মকর্তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ওই ইরানি কূটনীতিক।

ইউক্রেন বলে আসছে, রাশিয়ার সেনারা শহীদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করে আসছে ইরান। রাশিয়াও ইউক্রেনে ইরানি ড্রোনে হামলা চালানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল মঙ্গলবার নিয়মিত ভাষণে বলেছেন, তাঁর দেশে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের তৈরি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি ক্রেমলিনের সামরিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই প্রতীক। ইরানের কাছে এ ধরনের (ড্রোন) সহায়তার আবেদনের মাধ্যমে ক্রেমলিন তার সামরিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব স্বীকার করে নিল।