সানসেজ আরও বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে আমরা সবাই জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারব।’ তিনি মনে করেন, এ পদক্ষেপ জনগণকে অপেক্ষাকৃত শীতল রাখবে এবং জ্বালানি খরচ কমাবে। কারণ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার তখন কমে আসবে।

সানসেজের সরকার স্পেনে জ্বালানি সাশ্রয়মূলক আদেশ জারির জন্য কাজ করছে। আগামী সোমবার এ আদেশ অনুমোদন পেতে পারে। গতকাল সানসেজও বলেছেন, তাঁর সরকার সোমবার জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়জনিত পদক্ষেপ নেবে।

বিশ্বে স্পেনই এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণকারী প্রথম দেশ নয়। ২০১১ সালে জাপান ‘সুপার কুল বিজ’ ক্যাম্পেইন চালিয়েছিল। এর আওতায় অফিস কর্মীদের গ্রীষ্মকালে আরামদায়ক পোশাক পরতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে প্রচণ্ড গরমের কারণে রাজনীতিবিদদের বলা হয়েছে তাঁরা হাউস অব কমন্সে স্যুট জ্যাকেট না পরেই আসতে পারেন।

পরিকল্পিত বিধি অনুযায়ী, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চলাকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দরজা বন্ধ রাখতে বলা হবে, যেন শীতল বাতাস বাইরে চলে না যায়। সম্প্রতি ফ্রান্সেও একই রকমের নিয়ম জারি হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং রাশিয়ার গ্যাসের ওপর ইউরোপীয় দেশগুলোর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় কমিশনের যে পরিকল্পনা, তারই অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রচণ্ড রকমের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নিচ্ছে। মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন না হওয়ায় বিশ্বে ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে তাপপ্রবাহ। দিন দিন এগুলোর তীব্রতা বাড়ছে এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিল্পযুগ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বের দেশগুলো ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনে অনেক মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন