নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে সন্তানদের স্কুল বদলালেন হ্যারি–মেগান
যুক্তরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুল বদলেছেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। গতকাল সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২০ সালে রাজপরিবারের সঙ্গে বিরোধের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছেড়ে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান হ্যারি ও মেগান। এরপর চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেখানে বসবাসের সময় যুক্তরাজ্যের করদাতাদের অর্থে নিরাপত্তা বহাল রাখার জন্য কয়েক বছর আইনি লড়াই করেন হ্যারি। তবে শেষ পর্যন্ত সফল হননি।
সম্প্রতি সাত বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছেন এই দম্পতি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হ্যারি তাঁর ও পরিবারের জন্য পুলিশের নিরাপত্তা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন।
পরিবারটি বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্যের মধ্যাঞ্চলের কটসওল্ডস এলাকা বেছে নিয়েছে। এলাকাটি তারকাদের বসবাসের জন্য জনপ্রিয়। সেখানে একটি বেসরকারি স্কুলে দুই সন্তানকে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে স্কুলটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
‘হ্যালো!’ সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলটির দূরত্ব এবং সেখানে যাওয়ার পথে ব্যাপক যানজটের কারণে প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র সাময়িকীটিকে বলেন, ‘পরিবারের বর্তমান ব্যবস্থাপনার বাস্তব দিকগুলো নিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনার পর সন্তানদের স্কুল বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গতকাল এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হ্যারি ও মেগানের নিরাপত্তা দল কোনো জবাব দেয়নি।
বর্তমানে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা হ্যারি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হ্যারি তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশকে যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ রাজপরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রয়্যাল অ্যান্ড ভিআইপি এক্সিকিউটিভ কমিটি (র্যাভেক) গত সপ্তাহে হ্যারির পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছে। পরিবারটির নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো পর্যালোচনা করছে কমিটি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, তাঁর ছেলে হ্যারি ও পুত্রবধূ মেগানকে রাজপরিবারের ‘দায়িত্বরত সদস্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।