সত্তরের দশকের ‘অ্যাকশন চলচ্চিত্রের কায়দায়’ ইউক্রেনের শহরে রুশ সেনারা
চারপাশে ঘন কুয়াশা। মাঝবরাবর যে রাস্তাটি চলে গেছে, তাতে ধ্বংসাবশেষের ছড়াছড়ি। এর মধ্য দিয়েই মোটরসাইকেলে করে এগিয়ে চলেছেন রাশিয়ার সেনারা। মোটরসাইকেলগুলোর সঙ্গে রয়েছে ভাঙাচোরা গাড়ি। কোনোটির দরজা নেই, কোনোটির জানালা। সেগুলোতেও বসে আছেন সেনারা। কারও জায়গা হয়েছে আবার গাড়ির ছাদে। পাশেই রাখা একটি ড্রোন।
রাশিয়ার ওই সেনারা এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে পোকরোভস্ক ও কুপিয়ানস্ক শহরের গভীরের দিকে। মঙ্গলবার এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যুদ্ধ নিয়ে কাজ করা রুশ ব্লগাররা। বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামের অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, ভিডিওটি দেখে তাদের মনে হয়েছে, এটি যেন ১৯৭৯ সালের অ্যাকশনধর্মী হলিউড চলচ্চিত্র ‘ম্যাড ম্যাক্স’–এর একটি চিত্র।
ইউক্রেনের পোকরোভস্ক শহরকে রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করে ‘দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে। মস্কোর ভাষ্য, এই শহরটির মাধ্যমে রুশ সেনারা দোনেৎস্কে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই শহর—ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কে প্রবেশ করতে পারবেন। সে কারণেই এক বছরের বেশি সময় ধরে পোকরোভস্ক শহর দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল রুশ বাহিনী।
রুশ ব্লগারদের প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে রয়টার্স। স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবির সঙ্গে ভিডিওটির রাস্তাঘাট, রাস্তার বিভিন্ন চিহ্ন, টাওয়ার ও গাছের মিল পাওয়া গেছে। ফলে ভিডিওটি যে পোকরোভস্ক শহরের গভীরে যাওয়ার পথে করা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সেটি কবে ধারণ করা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পোকরোভস্ক শহরের ভেতরে এখন রাশিয়ার প্রায় ৩০০ সেনা অবস্থান করছেন। সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে বিগত কয়েক দিন ধরে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। ইউক্রেনে ড্রোনের নজরদারি ফাঁকি দিতে ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। শহরটিতে দুই বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ওলেকসান্দ্র সিরিস্কি। তিনি বলেন, পোকরোভস্কের দখল নিতে দেড় লাখ সেনা একত্র করছে রাশিয়া। অপর দিকে রাশিয়া বলেছে, শহরটির পূর্বে ও উত্তর–পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের বাহিনী। তারা ২৫৬টি ভবন দখল করে নিয়েছে।
রুশ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ১৯ শতাংশের বেশি অঞ্চল এখন তাদের দখলে, যা প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের সমান। অপর দিকে, ইউক্রেনের প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, তাদের ১৯ দশমিক ১ শতাংশ ভূখণ্ড এখন রাশিয়ার দখলে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ অঞ্চল মস্কোর দখলে ছিল।