পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি বললেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াই বিশাল চ্যালেঞ্জ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ফাইল ছবি: এএফপি

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরের জি–২০ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আজ শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ সম্মতির কথা জানান।

গত বছরের তুলনায় ইউক্রেন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করাই এখন ইউক্রেনের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিসেম্বরে জি–২০ সম্মেলনে দুই নেতাকেই আমন্ত্রণ জানানো হলে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসবেন কি না—জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের মুখোমুখি বসে কথা বলতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কথার চেয়ে কাজের ওপর জোর দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাঁকে কী বলব কিংবা তিনি আমাকে কী বলতে চান, সেটা কোনো বিষয় নয়। দিন শেষে ফলাফলটাই সবচেয়ে জরুরি।’

গতকাল শুক্রবার কানাডায় ডয়চে ভেলেকে এই সাক্ষাৎকার দেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সফর একটি ‘ইতিবাচক বার্তা’। মস্কোর পাশাপাশি তাঁরা যে কিয়েভেও এসেছিলেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘এটি আমাদের জনগণের প্রতি তাঁদের সম্মান প্রদর্শন।’

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সরাসরি নতুন আলোচনা শুরু করতে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের অবস্থান কেমন হবে—জানতে চাইলে জেলেনস্কি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় ইউক্রেন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ধীরগতির জন্য রাশিয়াকে বড় মাশুল দিতে হচ্ছে। দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা মনে করি, আলোচনার টেবিলে আমরা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’

কিয়েভ চায় চলতি মাসেই আলোচনা শুরু হোক। তবে ক্রেমলিন গত সোমবার জানিয়েছে, বৈঠকের স্থান বা তারিখ নির্ধারণের জন্য এটি ‘খুবই প্রাথমিক পর্যায়’।

এর আগেও মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে কয়েক দফা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশই একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিকের মতোই আবারও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

রাশিয়ার বিমান হামলা ঠেকাতে জেলেনস্কি আবারও মিত্রদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর সামরিক সরঞ্জাম চেয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া এখন প্রতি মাসে প্রায় ১৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে। এগুলো ধ্বংস করতে ইউক্রেনের প্রতি মাসে দরকার অন্তত ২৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি বলেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করাই এখন ইউক্রেনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউক্রেন যুদ্ধই ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় ওয়াশিংটন। এ লক্ষ্যে মার্কিন আলোচকেরা সম্প্রতি কিয়েভ ও মস্কো সফর করেছেন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি–২০। ১৯টি দেশ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) এই জোটের সদস্য। চলতি বছর জি–২০–এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে জোটের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিমধ্যে জি–২০ জোটের এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী। ঘটনাটি ইউক্রেনের কিছু মিত্রদেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে হিউস্টনে জি–২০–এর জ্বালানিবিষয়ক একটি বৈঠক বসবে। আজ এক রুশ কূটনীতিক জানান, সেখানেও মস্কো তাদের কিছু কর্মকর্তা পাঠাবে।