ইউরোপের আট দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ইউরোপ কখনো জিম্মি হবে না।’ মেটে ফ্রেডেরিকসেনের পাশাপাশি শুল্কারোপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউরোপের অন্যান্য দেশের নেতারাও।
গত শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ শুল্ক কার্যকর হবে, যা পরে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।
এই আট দেশ হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণার বিরোধিতা করেছিল।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাঁর চাই। তিনি শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনাকে বাতিল করেননি।
ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা চলছে ইউরোপজুড়ে। ইউরোপীয় নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে শুল্কারোপের নিন্দা জানিয়েছেন। পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমরা সহযোগিতা করতে চাই, সংঘাত চাই না। মহাদেশের বাকি অংশ থেকেও ধারাবাহিকভাবে বার্তা পেয়ে আমি খুশি—ইউরোপ জিম্মি হবে না।’
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সৃষ্টিকারী মৌলিক মূল্যবোধের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, গতকাল রোববার তিনি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এরপর তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন।
স্টারমারের দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ভার ন্যাটোর দেশগুলোর সম্মিলিত অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করাটা ভুল পদক্ষেপ।