রাশিয়ার হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন আঘাত হানার পর আগুন নেভাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর কিয়েভ সদর দপ্তরে রাশিয়ার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি আঘাতের এই বিরল ঘটনাটি ঘটেছে। এটি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতিকে ফুটিয়ে তুলেছে।

কিয়েভে টানা কয়েক দিন ধরে আকাশপথে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল রাশিয়া। এরই মধ্যে দিনের আলোতেই এসবিইউ ভবনে আঘাত হানল ড্রোনটি। সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে এ ভবন আগে কখনো এমন সরাসরি নিশানায় পরিণত হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন। জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ওই ভবনে থাকা এসবিইউপ্রধান ওলেকসান্দ্র পোকলাদের কার্যালয় লক্ষ্য করেই সরাসরি ড্রোনটি ছোড়া হয়েছিল।

তবে এসবিইউ পরে জানিয়েছে, পোকলাদ নিরাপদে আছেন এবং হামলায় তিনি আহত হননি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘সবকিছু প্রস্তুত হওয়ার পর আমি পোকলাদকে নির্দেশ দিয়েছি রুশদের এর একটি উপযুক্ত ও মোক্ষম জবাব দিতে। সম্ভব হলে ঠিক এভাবেই পাল্টা হামলা চালাতে বলেছি। আমাদের সেনাবাহিনী এই কাজে তাঁকে সহায়তা করবে।’

কিয়েভ শহরে টানা আট দিন ধরে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শহরের কেন্দ্রস্থলের একাধিক ভবনের পাশাপাশি শহরতলির গুদাম ও কারখানাগুলোতেও হামলা হয়েছে। এর মধ্যে শহরে উপকণ্ঠে কোকা–কোলা তৈরির একটি কারখানাও রয়েছে।

গত মাসে শুরু হওয়া প্রায় বিরতিহীন এসব হামলায় কিয়েভ শহর ও এর আশপাশের অঞ্চলে কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত ও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।

তবে এসবিইউর ওপর হামলাটি এই সংঘাতের একটি বড় ঘটনা। এটি প্রমাণ করে, কিয়েভ রাশিয়ার হামলা থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো রক্ষা করতে ক্রমে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ, তাদের কাছে হামলা ঠেকানোর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) চরম সংকট রয়েছে।

এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন আঘাত হানার পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন পথচারীরা। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

গত কয়েক দিনের বেশির ভাগ হামলাই চালানো হয়েছে জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন দিয়ে। এই খুনে যন্ত্রগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার বেগে পর্যন্ত ছুটতে পারে।

এই ড্রোনগুলোর গতি এতই বেশি যে কিয়েভের ভ্রাম্যমাণ ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা দিয়েও এগুলোকে নিশানা করা কঠিন। তাই এগুলোকে ভূপাতিত করার একমাত্র উপায় হলো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অথবা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা। আর ইউক্রেনে এই দুটি জিনিসেরই চরম সংকট রয়েছে।

রুশ ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তর থেকে ধোঁয়া উঠছে। কিয়েভ, ইউক্রেন, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

অতীতে রাশিয়া গুটি কয় সরকারি ভবনে আঘাত হানতে পারলেও দিনের বেলায় এত গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুতে এর আগে কখনো হামলা চালাতে পারেনি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, এই হামলার ‘কঠিন জবাব দেওয়া প্রয়োজন’।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ সফরের পরিকল্পনা করছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে সিবিহা বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগের মধ্যেই মস্কো এই হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করল যে তারা আসলে কূটনীতি চায় না।’