অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ হচ্ছে
অস্ট্রেলিয়ার পর এবার যুক্তরাজ্য শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস গতকাল বুধবার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় মতো করে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।
গত সোমবার স্টারমার বলেছেন, ‘আমরা কোনো বিকল্পই বাদ দিচ্ছি না। শিশুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তবে তাঁর সরকার আইন প্রণয়নের আগে আসন্ন গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত পরামর্শ-পর্যালোচনার ফলাফল দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি এবং শাসক লেবার পার্টির মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার দাবি বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ায় গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাউস অব লর্ডসে এই সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতা জন ন্যাশ। প্রস্তাবটি ২৬১ ভোটের বিপরীতে ১৫০ ভোটে পাস হয়। লেবার ও লিবারাল ডেমোক্র্যাটের একজন সদস্যও এই বিলে সমর্থন করেন।
জন ন্যাশ বলেন, ‘আজ রাতের এই ভোটে পার্লামেন্ট সদস্যরা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি প্রজন্মের যে ভয়াবহ ক্ষতি করছে, এই ভোট তা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’
ভোটের আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, সরকার এই সংশোধনী গ্রহণ করবে না। সংশোধনী প্রস্তাবটি এখন লেবার নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে যাবে। ৬০ জনের বেশি লেবার এমপি স্টারমারকে নিষেধাজ্ঞা সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিনেতা হিউ গ্রান্টসহ কিছু সুপরিচিত ব্যক্তি সরকারকে এই প্রস্তাব সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু মা-বাবাই শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
গত ডিসেম্বরে ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৭৪ শতাংশ নাগরিক এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। অনলাইন সেফটি আইন অনুযায়ী ক্ষতিকর বিষয়বস্তুতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স যাচাই নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।