রাজধানী বার্লিনে গৃহহীনদের জন্য ‘হিট এইড’ নামে একটি প্রকল্প চালু হয়েছে। এতে অতি গরমে যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গৃহসুবিধা, গোসল ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত কয়েক দিন থেকে দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে প্রচণ্ড গরম ও দাবানলের পর এখন মধ্য ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে দাবদাহ ছড়িয়ে পড়েছে। এই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় কয়েক শ ব্যক্তি মারা গেছেন আর গরমের শিকার হচ্ছেন শত শত মানুষ।

করোনা সংক্রমণের দুই বছর পর এই গ্রীষ্মে লক্ষাধিক পর্যটক যখন আবার ছুটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, তখন এ দাবদাহ ও দাবানল অনেকের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ ইউরোপের স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও ফ্রান্সের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত। সোমবার বিকেলে ফ্রান্সের জনপ্রিয় অবসর কাটানোর এলাকা ডিউন ডু পিলাটের কাছে তেস্তে-দা-বুচ এলাকা থেকে সতর্কতা হিসেবে প্রায় আট হাজার লোককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য প্রচণ্ড দাবদাহের মুখোমুখি হচ্ছে। লন্ডন ও ম্যানচেস্টার শহরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে বলে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। আসন্ন রেকর্ড তাপমাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে তাপ সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার ন্যাশনাল ক্রাইসিস টিম আলোচনায় বসেছিল। এই ক্রাইসিস টিম দেশটির কিছু অংশে লাল আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই ধরনের চরম তাপমাত্রায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। বেশি করে বয়স্ক ও দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষ এ সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে আগাম সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এ চরম আবহাওয়ায় লন্ডনের গৃহহীনদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

জার্মানির দ্য জাইট পত্রিকা ‘এই গ্রীষ্মে ইউরোপে আগুন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলেছে, দক্ষিণ ইউরোপে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, গ্রিসের বনভূমিগুলোতে দাবানল চলছে। এতে বর্তমান ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এ ছাড়া দাবানলের খপ্পরে হাজার হাজার অবকাশযাপনকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লাগাতার গরমে এসব দেশের কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বহু মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে।

পর্তুগাল সরকার এই দাবদাহের কারণে দেশটিতে আগামী রোববার পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করেছে। বনাঞ্চলগুলোতে ক্যাম্প ফায়ার জ্বালানো নিষিদ্ধ করেছে।

গ্রিস এখন পর্যন্ত তীব্র তাপ থেকে কিছুটা রক্ষা পেলেও অনেকগুলো বনে আগুন লেগেছে। গত বুধবার দেশটিতে একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে দুই ক্রু নিহত হন। দেশটির রাজধানী এথেন্সের আশপাশের কিছু অঞ্চল এবং ক্রেটা, ইউবোয়া, লেসবস ও সামোস দ্বীপপুঞ্জের পর্যটকদের দাবদাহের কারণে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের আটলান্টিক উপকূলে বোর্দোর বনাঞ্চলে আগুনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ অঞ্চলের ফরাসি ট্রেনগুলো উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ধীরগতিতে চলবে বা সূচি থেকে বিলম্বে চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন