যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও অর্থসহায়তা দিয়ে কিয়েভের প্রধান মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে কিয়েভকে সহায়তায় বাইডেনের ক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনে শান্তি না ফেরা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে। জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে এখন যে রকম অবিচল ঐকমত্য আছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি আমি।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে শত শত কোটি ডলারের সমরাস্ত্র ও অর্থসহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে হামলার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন মস্কোর ওপর একের পর এক নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া বৈঠক

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির নিউ স্টার্টের (স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশান ট্রিটি) আওতায় দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার পরিদর্শন পুনরায় শুরু করা বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটন শিগগিরই আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নিউ স্টার্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী খুব শিগগির দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় কমিটির (বিসিসি) বৈঠকের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ তবে কবে ও কোথায় বৈঠক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি প্রাইস। গত বছরের অক্টোবরের পর এটাই হবে বিসিসির প্রথম বৈঠক।

গত আগস্টে মস্কো নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের পরিদর্শনের বিষয়টি স্থগিত করছে। রাশিয়া পরিদর্শন করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দিচ্ছে অভিযোগ তুলে এ ঘোষণা দেয় মস্কো। বিশ্বের প্রধান দুই পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশের মধ্যে এই একটি চুক্তিই টিকে আছে।