পরিবার নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম
সবুজ মাঠ। যত দূর চোখ যায় বাহারি গাছের সারি। কখনো দেখা মেলে চঞ্চল হরিণের। নেই অযথা শহুরে কোলাহল। এমনই প্রকৃতির মধ্যে একটি বাড়িকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম। ওই বাড়িতে তাঁর সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী কেট মিডলটন এবং তিন সন্তান—জর্জ, চার্লট ও লুইস।
প্রকৃতির সঙ্গে বাড়ির নামেরও মিল রয়েছে—ফরেস্ট লজ। যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর গ্রেট পার্কের এ বাড়িটিতে আটটি শোবার ঘর রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে পরিবার নিয়ে উইলিয়াম বাড়িটিতে উঠবেন বলে আজ রোববার জানিয়েছেন রাজপরিবারের একজন মুখপাত্র। বর্তমানে উইন্ডসরের অ্যাডেলেইড কটেজে অবস্থান করছেন তাঁরা। ফরেস্ট লজ থেকে এ বাড়ি ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত।
রাজপরিবারের সদস্যরা উঠবেন, তাই চলতি মাসের শুরুর দিকে ফরেস্ট লজে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। স্থানীয় কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্তে বাড়িটির একটি জানালা প্রতিস্থাপন এবং একটি ফায়ারপ্লেস মেরামতের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২০০১ সালে বাড়িটিতে বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তখন খরচ হয়েছিল ২০ লাখ ডলার।
প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট এই প্রথম নতুন বাসায় উঠছেন—বিষয়টি এমন নয়। রাজপরিবারের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে সন্তানদের স্কুল চলাকালে পরিবার নিয়ে লন্ডনের বাইরে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তখন অ্যাডেলেইড কটেজে উঠেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল সন্তানদের একটি ‘সাধারণ পারিবারিক’ জীবন দেওয়া।
এরপর দীর্ঘ একটি সময় সংকটের মধ্যে কাটে উইলিয়াম ও কেট দম্পতির। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা শুরু হয় প্রিন্সেস অব ওয়েলসের। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেমোথেরাপি নেওয়া শুরু করেন তিনি। চিকিৎসার এই সময়ে অন্তরালে চলে যান। গত গ্রীষ্মকালে শুধু তাঁকে কয়েকবার দেখা গিয়েছিল। এরপর গত সেপ্টেম্বরে কেট জানান, ক্যানসারমুক্ত হয়েছেন তিনি।
ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে অ্যাডেলেইড কটেজেই থেকেছেন কেট। সময়টা দীর্ঘ ১৮ মাস। রাজপরিবারের একজন বিবিসিকে বলেন, অ্যাডেলেইড কটেজে তাঁদের খুবই কঠিন সময় কেটেছে। নতুন ঠিকানা তাঁদের নতুন করে শুরু করার এবং নতুন অধ্যায়ে পা রাখার সুযোগ দেবে। কষ্টের স্মৃতিগুলো ঝেড়ে ফেলার সুযোগও করে দেবে এটি।