কিশোর বয়সে জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে টিকের (এঁটুলি) কামড় খেয়ে লাইম রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ফ্রান্সের তরুণ কিলিয়ান ল্যু গিয়াদে। প্রায় তিন বছর অসুস্থ ছিলেন তিনি। অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল সে যাত্রা, নিজের দৈনন্দিন কাজ করার মতো শারীরিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকে লাইম রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ। সঙ্গে ছিল ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোড’ ধরে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
নিজের স্বপ্নপূরণে চলতি বছরের শুরুতে নিজের শহর থেকে সাইকেল চেপে বেরিয়ে পড়েন কিলিয়ান। ফ্রান্সের উত্তর–পশ্চিমের শহর রেন থেকে রওনা হন চীনের পথে।
সিল্ক রোড ধরে কিলিয়ান চলতে থাকেন, চীনে পৌঁছাতে কয়েক মাসে একে একে পাড়ি দেন ৩০টির বেশি দেশ। প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে তিনি লাইম রোগ নিয়ে সচেতনতা আর আশার বাণী ছড়িয়ে গেছেন। পথে পথে মানুষের কাছে তিনি এ রোগের বিরুদ্ধে নিজের হার না মানা লড়াইয়ের গল্প শুনিয়েছেন।
কিলিয়ান নিজের এই যাত্রাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেন। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনও বটে। নিজের এই অর্জন তিনি লাইম রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষের নামে উৎসর্গ করেন।
কিলিয়ান তিন বছর লাইম রোগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। এ তরুণ আশা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর গল্প মানুষকে উৎসাহিত করবে।
কিলিয়ান ২০২৩ সালে ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। এরপর তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের পথে যাত্রা করতে আট মাস তহবিল সংগ্রহ করেন।
সড়কপথে ইউরোপ হয়ে এশিয়ায় পৌঁছানোর এই যাত্রায় কিলিয়ান প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার একা সাইকেল চালিয়েছেন। যাত্রাপথে তুরস্ক ও জর্জিয়ায় তাঁর এক বন্ধু তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন। তারপর তিনি আবার একা যাত্রা করেন এবং চীনে পৌঁছান।