ইউরোপের কাছে বিমানের ৬ সপ্তাহের জ্বালানি মজুত আছে: এপিকে আইইএর প্রধান
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউরোপের কাছে ‘হয়তো আর মাত্র ৬ সপ্তাহের মতো বিমানের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে’। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ‘শিগগিরই’ অনেক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল এ কথা বলেন।
আইইএর প্রধান এই জ্বালানিসংকটের সামনের দিকে থাকা দেশ হিসেবে জাপান, কোরিয়া, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিশ্বব্যাপী এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে একে ‘আমাদের দেখা এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় জ্বালানিসংকট’ বলে উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাতিহ বলেন, অতীতে ‘ডায়ার স্ট্রেইটস’ নামে একটি ব্যান্ড দল ছিল। এখন পরিস্থিতি সত্যিই এক ‘ভয়াবহ প্রণালি’–এর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এটি যত দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য পরিস্থিতি তত খারাপ হবে।’
সাক্ষাৎকারে ফাতিহ এপিকে বলেন, এর ফলে ‘পেট্রল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।’
আইইএর প্রধান বলেন, এই অর্থনৈতিক কষ্ট সব জায়গায় সমানভাবে অনুভূত হবে না। কিছু দেশ ‘অন্যদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।
ফাতিহ বলেন, ‘যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ভুগবে, তাদের কণ্ঠস্বর খুব একটা শোনা যাবে না। তারা মূলত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশ।’
প্যারিসে নিজের অফিস থেকে আইফেল টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে ফাতিহ আরও যোগ করেন, এরপর এই ধাক্কা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া না হলে ইউরোপে কী হতে পারে, তা–ও বলেছেন আইইএ প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, শিগগিরই আমরা খবর শুনব, জ্বালানির অভাবে এ শহর থেকে ও শহরে উড়োজাহাজের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে।’
ফাতিহ ইরানের ‘টোল বুথ’ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলেন, যার মাধ্যমে ইরান নির্দিষ্ট ফি বা মাশুলের বিনিময়ে কিছু জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
ফাতিহ বলেন, একে স্থায়ী হতে দিলে এমন এক নজির তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যা পরবর্তী সময়ে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালিসহ অন্যান্য জলপথেও প্রয়োগ করা হতে পারে।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা একবার এটি পরিবর্তন হতে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে আসা কঠিন হতে পারে। এখানে টোলব্যবস্থা চালু হলে অন্য কোথাও তা কার্যকর না করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
সবশেষে সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বলেন, ‘আমি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই তেল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হোক।’