জার্মানির লাইপজিগে জনতার ভিড়ে গাড়ি উঠে নিহত ২
জার্মানির লাইপজিগ শহরের ব্যস্ততম এলাকায় একটি গাড়ি জনতার ভিড়ে উঠে গেলে দুজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ঘটনাস্থলে গাড়ির ভেতর থেকে আটক করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, নিহত দুজন হলেন ৬৩ বছর বয়সী এক নারী এবং ৭৭ বছর বয়সী এক পুরুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী মাথিয়াস এবারলাইন এমডিআর টেলিভিশনের সাংবাদিককে বলেছেন, ‘সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছিল। হঠাৎ চিৎকার শুনলাম, “সবাই সরে যান, সরে যান!” তারপর গাড়ির আওয়াজ শুনি। গাড়িটি মানুষের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে চলে যায়।’
ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অনেকে আতঙ্কে লাফিয়ে সরে যান এবং শেষ পর্যন্ত গাড়িটি কমারাৎস ব্যাংকের সামনে থাকা ব্যারিকেডে গিয়ে থেমে যায়।
আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাইপজিগ রাষ্ট্রীয় কৌশলীর মুখপাত্র রিকার্ডো শুলৎস বলেন, অনেক মানুষ ঘটনাস্থল ছেড়ে নিজেরাই চিকিৎসকের কাছে চলে গেছেন। তাই সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আজ সকালে চলমান তদন্তের কারণে শহরের কেন্দ্রস্থল এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি। এদিকে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্মরণে লাইপজিগের বিভিন্ন গির্জা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রার্থনা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে আগুস্টুসপ্লাৎস এলাকায় পুলিশ মোবাইল সহায়তা টিম মোতায়েন করেছে। তারা ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা মানসিক সহায়তা প্রয়োজন—এমন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনেকেই এই সহায়তা গ্রহণ করছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আজ আদালতের হেফাজতে বিচারকের সামনে হাজির করা হতে পারে। প্রায় ৮০ জন মানুষ সরাসরি এই ঘটনায় কমবেশি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কতজন শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত ও আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলেছে।
লাইপজিগ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অ্যাক্সেল শুহ প্রাথমিক উদ্ধারকারীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত আহত ব্যক্তিদের সেবায় এগিয়ে আসেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে সম্প্রতি একটি মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ছাড়া হয়েছিল। হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুটি হত্যাকাণ্ড এবং অন্তত দুটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
লাইপজিগের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ক্লাউডিয়া লাউবে বলেন, দুজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আরও কয়েকজন এখনো হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন। তিনি জনগণকে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
ক্লাউডিয়া বলেন, ‘এটি একটি উন্মত্ত হামলা বলেই আমরা মনে করছি। অন্য কোনো ব্যাখ্যার ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।’