জাংক ফুড খাওয়ার পর মাটি খাচ্ছে বানর
যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জিব্রাল্টারের বানরেরা পর্যটকদের দেওয়া জাংক ফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে পেটের সমস্যায় ভুগছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তারা এখন মাটি খাওয়া শুরু করেছে।
গবেষকদের মতে, চকলেট, চিপস ও আইসক্রিমের মতো খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, চিনি, লবণ ও দুগ্ধজাত উপাদান থাকে। এসব খাবার বানরদের পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। মাটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এই অস্বস্তি কমিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, বানরেরা মূলত মাটি থেকে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া ও খনিজ সংগ্রহ করে, যা জাংক ফুডে অনুপস্থিত। পর্যটকদের ফেলে দেওয়া বা তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া খাবারগুলো তাদের কাছে মানুষের মতোই সুস্বাদু লাগে। কিন্তু এসব খাবারের ফলে তাদের বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে এবং ছুটির মৌসুমে জিব্রাল্টারের বানরদের মাটি খাওয়ার প্রবণতাও অনেক বেড়ে যায়।
গবেষক সিলভাইন লেমোইন জানান, স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সাধারণত বড় হওয়ার পর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহজে হজম করতে পারে না। পর্যটকদের কাছে আইসক্রিম খুব জনপ্রিয় হওয়ায় বানরও তা প্রচুর পরিমাণে খায়, যা তাদের পেটের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাটি তাদের অন্ত্রে একটি সুরক্ষাকবচ বা প্রতিবন্ধক তৈরি করে ক্ষতিকর উপাদান শোষণে বাধা দেয়।
মজার বিষয় হলো, মাটি খাওয়ার এই কৌশল বানরেরা একে অপরের কাছ থেকে সামাজিকভাবে শিখছে। কারণ, একেক দলের বানরের মধ্যে একেক ধরনের মাটির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখা গেছে। প্রাকৃতিকভাবে এসব প্রাণীর লতাপাতা, বীজ ও পোকামাকড় খাওয়ার কথা থাকলেও মানুষের সান্নিধ্যে এসে তারা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকছে। টিকে থাকার লড়াইয়ে বিবর্তনের ধারায় মানুষ যেভাবে চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জিব্রাল্টারের বানরদের মধ্যেও এখন একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে জিব্রাল্টারের বিখ্যাত ‘রক’ এলাকায় আটটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ২৩০টি বানর বসবাস করছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা ৪৪টি বানরের মধ্যে অন্তত ৪৬ বার মাটি খাওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন।
গবেষকেরা বলছেন, মূলত মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে বন্য এই প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাসে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। জাংক ফুডের প্রতি আসক্তি তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রজাতির অস্তিত্ব ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।