রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাশিয়ার এ সেনা সমাবেশকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিরাট অঞ্চলে মস্কো অনুগত নেতাদের ডাকা গণভোটের প্রতি সুস্পষ্ট সমর্থন জানালেন পুতিন। ওই গণভোট ডাকার পরদিনই তিনি রিজার্ভ সেনাদের ডাকার নির্দেশ দিলেন।  

পুতিনের এ ঘোষণার পর বিক্ষোভ শুরু করেন যুদ্ধবিরোধী রুশ নাগরিকেরা। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক শহর ও ইয়েকাতেরিনবার্গ মতো শহরগুলোতে।

এ দিকে পুতিনের এমন ঘোষণার পর রাশিয়া থেকে ছাড়া বিমানের টিকিট বিক্রি বেড়ে গেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়।  

গতকাল ভাষণে ইউক্রেন ও এর পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ড রক্ষায় সামর্থ্যে থাকা সব উপায় প্রয়োগ করব। প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করা হবে। পশ্চিমারা যদি ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল’ অব্যাহত রাখে, তাহলে মস্কো তার হাতে থাকা অস্ত্রের বিশাল মজুতের শক্তি দিয়েই জবাব দেবে। ভাষণে পুতিন বলেছেন, তিনি রিজার্ভ বাহিনীর আংশিক সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়ে একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন, আর তা বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

এ দিকে নতুন করে সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেছে রাশিয়ার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়। গতকালই এই বিক্ষোভকে অননুমোদিত আখ্যা দিয়ে ওই কার্যালয় থেকে বলা হয়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্ষোভে অংশ নিতে আহ্বান করা হলে এবং বিক্ষোভে অংশ নিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করা, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানো বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিক্ষোভে অংশ নিতে উত্সাহিত করার অভিযোগ আনা হতে পারে।

রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন আগোরার আইনজীবী পাভেল শিকভ বলেছেন, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে আগোরার হটলাইনে ৬ হাজারটি কল এসেছে, যারা রাশিয়ার সেনাদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিলেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন