default-image

মাঝখানে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতার পর উইন্ডসর ক্যাসেলের সমাধিতে স্বামী ফিলিপের পাশে সমাহিত হবেন তিনি। ইতিমধ্যে স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ওয়েস্টমিনস্টার হলে রানির প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় শেষ হয়েছে।

ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে সামান্য দূরত্বে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের অবস্থান। অতিথিদের প্রবেশের সুবিধার্থে সকাল আটটায় গির্জার গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুর পর ৭০ বছরের রাজত্ব শেষ হয় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। এখন চির বিশ্রামে শায়িত। স্কটল্যান্ডের বালমোরালে মৃত্যুর পর তাঁর জন্য তৈরি বিশেষ কফিনটি রাখা হয় সেখানকার সেন্ট জাইলস ক্যাথিড্রালে। রাজকীয় শোভাযাত্রা করে আনা হয় কফিনটি। রানির রাজত্বকালের মতোই কফিনটির মহিমাও রাজকীয়।

৩২ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল কফিনটি। ইংলিশ ওককাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় রানির কফিনটি। রাজকীয় রীতি মেনে কফিনটির গায়ে সীসার পরত দেওয়া আছে। সেই কফিনটি বহন করবেন আটজন বাহক। সীসার পরত থাকায় কফিনের ভেতর ও বাইরে বাতাস ও আর্দ্রতা প্রবেশ করতে পারে না। এ কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে দেহ সংরক্ষণ করা যায়। আর একই কারণে কফিনটি অনেক ভারী।

কফিনটি কে তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডনে রাজপরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালনা করে লেভারটন অ্যান্ড সন্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই বছরই উত্তরাধিকারসূত্রে তারা কফিনটি পেয়েছিল।

default-image

কফিনের ভেতর রানির দেহের সঙ্গে বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র রাখা হবে। সেগুলো যাতে নিরাপদে থাকে, তার জন্য এর ঢাকনাটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। বার্মিংহামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কফিনটির পিতলের হাতল তৈরি করেছে। এটি বিশেষভাবে রাজকীয় ক্যাসকেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আর কফিনটি সম্পর্কে লেভারটন অ্যান্ড সন্সের মালিক অ্যান্ড্রু লেভারটন বলেন, এটা এমন এক কফিন, যা একদিনে তৈরি করা সম্ভব নয়।

গত বছর মৃত্যু হয়েছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপের। তাঁর জন্য যে কফিনটি তৈরি করা হয়েছিল, রানির কফিনটি হুবহু এক রকমের। প্রিন্স ফিলিপকে লন্ডনের পশ্চিমে অবস্থিত উইন্ডসরের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলের রাজা ষষ্ঠ জর্জ মেমোরিয়াল চ্যাপেলে সমাহিত করা হয়েছিল। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকেও শিগগিরই তাঁর পাশেই সমাহিত করা হবে।

তথ্যসূত্র: এএফপি, এনডিটিভি ও ইউএসএ টুডে

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন