পেটের ব্যথায় হাসপাতালে গিয়ে জন্ম দিলেন সন্তান
যুক্তরাজ্যের তরুণী হ্যাটি শেপার্ড। ২১ বছর বয়সী এই তরুণী তাঁর ছেলেবন্ধু বেইলি চিডলের (২২) সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ঘুরতে বের হয়েছিলেন। দুজন পিঠে মাত্র দুটি ব্যাগ নিয়ে ছয় মাসের জন্য রোমাঞ্চকর ওই অভিযাত্রায় বের হন। এ ধরনের পর্যটকেরা সাধারণত ‘ব্যাকপ্যাকার’ নামে পরিচিত।
পশ্চিমা দেশগুলোয় তরুণ–তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের অভিযাত্রা বেশ জনপ্রিয়। গত বছর জুলাইয়ে হ্যাটি ও বেইলি জুটি তাঁদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ শুরু করেছিলেন। এই ভ্রমণে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার গহিন সৈকতগুলোয় ঘুরে বেড়িয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ নৌভ্রমণ করেছেন।
জুলাইয়ে শুরু করা হ্যাটি ও বেইলির ওই ভ্রমণযাত্রা তখন শেষের পথে। নতুন বছর উদ্যাপনও শেষ হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি একদিন হ্যাটির পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
অস্বস্তিকর ওই পেটব্যথা ক্রমেই বাড়ছিল, ওষুধ খাওয়ার পরও কমার কোনো লক্ষণ নেই। পেটব্যথা সহ্যের বাইরে চলে গেলে কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ছোটেন হ্যাটি।
চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসাউন্ড করে যা দেখতে পান, তার জন্য হ্যাটি একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। চিকিৎসকেরা হ্যাটিকে বলেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর প্রসববেদনা উঠেছে।
হতবাক হ্যাটি বলেন, তিনি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতেন। তা ছাড়া তাঁর শরীরে গর্ভধারণের কোনো লক্ষণ নেই।
মাঝারি গড়নের হ্যাটির পেট একেবারেই বড় হয়নি, তাঁর ওজনও সামান্যই বেড়েছিল।
হাসপাতালে প্রায় ১০ ঘণ্টা প্রসববেদনার পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন হ্যাটি।
হ্যাটি বলেন, ‘যখন চিকিৎসকেরা জানালেন যে আমি অন্তঃসত্ত্বা, আমি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। এতটা ভয় আমি আমার জীবনে আগে কখনো পাইনি।’
কেন হ্যাটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কোনো লক্ষণ বুঝতে পারেননি বা তাঁর শরীরে কোনো লক্ষণ ফুটে ওঠেনি, চিকিৎসকেরা সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
হ্যাটির প্লাসেন্টা উল্টো দিকে ছিল। ফলে পেটের ভেতর তাঁর ভ্রূণ পিঠের দিকে মেরুদণ্ড ঘেঁষে বড় হয়েছে। এ কারণে হ্যাটির পেট বড় হয়নি, সাধারণত অন্তঃসত্ত্বা নারীদের যেমনটা হয়। এ ধরনের গর্ভধারণকে ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি বলে।
নিউইয়র্ক পোস্টের খবর অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ৪৭৫ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মধ্যে একজন ক্রিপটিক। এ ধরনের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অন্তত ২০ সপ্তাহ নারীর শরীরে গর্ভধারণের কোনো লক্ষণ ফুটে ওঠে না।
আর ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সির বেলায় প্রায় আড়াই হাজারে একজন প্রসববেদনা ওঠার আগপর্যন্ত কিছু বুঝতে পারেন না।