সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে চেক প্রজাতন্ত্রে সংবাদকর্মীদের ধর্মঘট
চেক টেলিভিশন (সিটি) এবং চেক রেডিওর (সিআরও) অর্থায়নব্যবস্থাকে সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা বাতিল করার দাবিতে গতকাল সোমবার চেক প্রজাতন্ত্রের পাবলিক মিডিয়ার কর্মীরা এক দিনের ‘সতর্কতামূলক’ ধর্মঘট পালন করেছেন।
রাজধানী প্রাগে চেক টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ওই ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। আগের দিন একই দাবিতে সেখানে আরেকটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
চেক প্রজাতন্ত্র সরকার দেশটির পাবলিক মিডিয়ার স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলছে অভিযোগ তুলে গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল সোমবার।
ধর্মঘটকারী, দেশটির নাগরিক সমাজ এবং বহু সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিসের সরকার দেশের গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর গত সপ্তাহে আন্দ্রেজ বাবিসের মন্ত্রিসভা পাবলিক মিডিয়ার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। ওই সিদ্ধান্তে বলা আছে, চেক টেলিভিশন এবং চেক রেডিও এখন থেকে লাইসেন্স ফি ব্যবস্থার পরিবর্তে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে করা অর্থায়নে পরিচালিত হবে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ দুটি সংবাদমাধ্যমের অর্থায়ন ২০০৮ সালের স্তরে নামিয়ে আনা হবে। অথচ মাত্র গত বছরই পূর্ববর্তী সরকার ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চেক টেলিভিশনের অর্থায়ন বাড়িয়েছিল।
বাবিস বলেছেন, নতুন অর্থায়নব্যবস্থা দরিদ্র পরিবারের জন্য আরও ন্যায্য হবে এবং এতে গণমাধ্যমগুলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করা যাবে।
অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে সরকার সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা পাবে। তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার কঠোরপন্থী সরকারের অনুরূপ উদ্যোগগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং অন্যান্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকেরা চেক সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
‘রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নই’
সোমবার ধর্মঘট চলাকালীন বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান ১ মিনিট দেরিতে শুরু হয় এবং স্ক্রিনে কাউন্টডাউন ক্লক দেখানো হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকেরা কালো পোশাক পরে ‘আমরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নই’ এবং ‘স্বাধীনতা মানে খরচ নয়’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
নতুন পরিকল্পনার কারণে আগামী বছর গণমাধ্যমগুলোর বাজেট প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যাবে। ফলে শত শত কর্মী ছাঁটাই এবং অনেক অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাবলিক রেডিও ও টিভির পরিচালকেরা।