রুশ হামলায় ট্রান্সফিগারেশন ক্যাথেড্রাল নামে ঐতিহাসিক গির্জা ক্ষতিগ্রস্ত। গতকাল ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে
ছবি: এএফপি

ইউক্রেনের ওদেসাজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার দিবাগত রাতে এসব হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫টি ঐতিহাসিক স্থাপনা। গতকাল রোববার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ওদেসায় যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর সংরক্ষিত স্থাপনাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওদেসার আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেহ কিপার বলেন, বিখ্যাত স্থপতিরা যেসব স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন, সেগুলো হামলায় ধ্বংস হয়ে গেল।

যেসব ভবন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি অর্থোডক্স ক্যাথেড্রাল রয়েছে। এ গির্জার নাম স্পাসো-প্রিওব্রাঝেনস্কি ক্যাথেড্রাল (ট্রান্সফিগারেশন ক্যাথেড্রাল )। এটি তৈরি করা হয়েছিল আজ থেকে ২০০ বছরের বেশি সময় আগে ১৮০৯ সালে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে একবার এটি ধ্বংস হয়েছিল। তবে ইউক্রেন স্বাধীন হওয়ার পর সেটি আবার নির্মাণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া হাউস অব সায়েন্টিস্ট যে ভবনটি প্যালেস অব দ্য কাউন্টস তলস্তয় নামে পরিচিত, সেই ভবনও ধ্বংস হয়েছে হামলায়। এই হামলার কারণে ইউনেসকো থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী ওলেকসান্দার তাকাচেঙ্কো। তিনি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ওদেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়াকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করতে এর চেয়ে বেশি তথ্যপ্রমাণ লাগে না। ইউনেসকো কি রাশিয়ার সদস্যপদ বাতিল করবে?

যদিও রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো হামলা তারা চালায়নি।

এদিকে ক্যাথেড্রালে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা বলছে, এটা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

পুতিন-লুকাশেঙ্কো বৈঠক

এদিকে গতকাল বেলারুশের প্রেসিডেন্টে লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠকে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যে অভিযান শুরু করেছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।

ওই বৈঠকে লুকাশেঙ্কো বলেন, সেখানে কোনো পাল্টা হামলা হয়নি।

এরপর লুকাশেঙ্কোকে থামিয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়েছে।

পুতিন ও লুকাশেঙ্কোর বৈঠকে ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাগনার গ্রুপের বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে লুকাশেঙ্কো বলেন, ‘তারা (ভাগনার যোদ্ধারা) পশ্চিমা দেশগুলোয় হামলা চালাতে চায়। এ জন্য তারা আমার অনুমতি চেয়েছে। তারা পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে যেতে চায়। তবে আমি তাদের বেলারুশের মধ্যাঞ্চলেই রেখেছি। আমরা এটাতেই সম্মত হয়েছিলাম।’