বিশ্বের বৃহত্তম শস্য সরবরাহকারী ইউক্রেনে চলমান সংঘাত বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ঠিক এ সময়ে ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কৃষ্ণসাগরের বিশেষ করিডর ব্যবহার করে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে জাতিসংঘ, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক বন্দর অবরুদ্ধ। ফলে এসব বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি। ইউক্রেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় এক–পঞ্চমাংশ হচ্ছে খাদ্যশস্য।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নিয়েছে রুশ সেনারা। কিয়েভ এর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে ওই সব অঞ্চলের খাদ্যশস্য চুরির অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে।

আলোচনা শুরুর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি শুরু করার জন্য আলোচনার মধ্য দিয়ে আরও অনেক দূর যেতে হবে। আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এখনো অনেক দূর যেতে হবে। অনেকে এ নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা তা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় সমস্যাটির সমাধান করতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেঙ্কো বলেছেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে, একটি সমাধান খুঁজে বের করতে সক্রিয় প্রচেষ্টার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, যা আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন,মস্কোর বেশ কিছু দাবি রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিওত্র ইলিচেভের বরাতে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলেছে, রাশিয়ার দেওয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তল্লাশির সুযোগ এবং উসকানি না দিতে কিয়েভের প্রতিশ্রুতি রক্ষার মতো বিষয়গুলো। তিনি বলেন, এ আলোচনায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন