ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আবুধাবিতে

হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় বাসস্টেশনে ইউক্রেনের নাগরিকদের অপেক্ষা। খারকিভ, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ রোববার এ খবর জানিয়েছেন।

এমন এক সময়ে এ আলোচনা হতে যাচ্ছে, যখন ইউক্রেনে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে রাশিয়ার হামলার কারণে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ সংকটময় পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধে সাময়িকভাবে কার্যকর ‘বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত হামলাবিরতি’ কত দিন টিকবে, তা নিয়ে ইউক্রেনের নাগরিকেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

চার বছর পূর্ণ হতে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিয়েভের ওপর চাপ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ এ যুদ্ধে ইউক্রেনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে চলতি শীতে দেশটির জনজীবন তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আবুধাবিতে প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল। এ বৈঠক শেষে ইউক্রেন বলেছিল, ‘কার্যকর’ আলোচনা হয়েছে। তবে ভূখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়া এখনো দাবি করছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত পূর্বাঞ্চল থেকে ইউক্রেনকে আরও ভূখণ্ড ছাড়তে হবে। কিন্তু কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ‘ইউক্রেন নিয়ে কার্যকর আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমরা চাই, আলোচনার ফলাফল যুদ্ধকে বাস্তব ও মর্যাদাপূর্ণ সমাপ্তির দিকে এগিয়ে নেবে।’

হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় শিশুকে কোলে নিয়ে হাঁটছেন ইউক্রেনের এক নাগরিক। দনিপ্রো নদীর কাছে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা মেরামতে তোড়জোড়

ইউক্রেনজুড়ে তীব্র ঠান্ডার নতুন ঢেউ বইছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানী কিয়েভে আজকেও এক হাজার আবাসিক ভবনে হিটার জ্বলেনি বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।

আজ কিয়েভের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। গত শনিবার গ্রিডে ব্যাপক সমস্যার কারণে শহরটির সাড়ে তিন হাজার বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানী কিয়েভের চলমান বিদ্যুৎ সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে রাশিয়ার গত কয়েক বছরের হামলার সঙ্গে এর পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। প্রতিবেশী দেশ মালদোভাতেও বিদ্যুৎ–বিভ্রাট চলছে।

দুই দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে তারা আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখবে। তবে কিয়েভ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া।