সামরিক খাতে খরচ বেড়েছে ইউরোপের, বিশ্বের খরচেও রেকর্ড

নরওয়েতে ন্যাটো সেনাদের মহড়া, ২০২২ সালের মার্চে
ছবি: এএফপি ফাইল ছবি

ইউরোপজুড়ে ২০২২ সালে সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে বেড়েছে। স্নায়ুযুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে সামরিক ব্যয় এতটা বাড়তে দেখা যায়নি। এ ছাড়া টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বের মোট সামরিক খরচের পরিমাণও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ইউরোপের দেশগুলো তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য ১৩ শতাংশ বেশি খরচ করেছে। আর ওই বছরটির (২০২২) প্রায় পুরোটা জুড়েই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলেছে।

সিপ্রির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর শুধু ইউক্রেনেই সামরিক খরচের পরিমাণ সাত গুণ বেড়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ। এর পাশাপাশি দেশটি অন্যান্য দেশ থেকে শতকোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রসহায়তা পেয়েছে।  

একই সময়ে রাশিয়ার খরচ ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সিপ্রির এ গবেষণাকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষক নান টিয়ান বলেন, যুদ্ধরত ইউক্রেন ও রাশিয়াকে বাদ দিয়ে হিসাব করলেও দেখা যাচ্ছে ইউরোপের খরচ অনেক বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইউরোপে সামরিক খাতে ৪৮ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে। গত দশকের তুলনায় মহাদেশটিতে খরচের পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। আগামী দশকেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা বাড়তে পারে।  

টিয়ান বলেন, ইউরোপে ২০২২ সালে যে পরিমাণ সামরিক ব্যয় হয়েছে, সে একই রকমের ব্যয় আরও কয়েক বছর ধরে হতে পারে। ইউরোপে সামরিক খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বের মোট সামরিক খরচের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২২ সালে বিশ্বে ২ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা বিশ্বের জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ।

২০২২ সালে বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীন। দেশটির খরচ বিশ্বের মোট সামরিক খরচের ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি এ দুটি দেশে হয়।

এ ছাড়া গত বছর সামরিক খাতে বিশ্বের মোট খরচের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ রাশিয়ায়, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভারতে এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সৌদি আরবে হয়েছে।

জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়াতেও সামরিক খাতে খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে যুক্তরাজ্য। বিশ্বে সামরিক খাতে বেশি ব্যয় করার তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। গত বছর গোটা বিশ্বে সামরিক খাতে যত খরচ হয়েছে, তার ৩ দশমিক ১ শতাংশ যুক্তরাজ্যের। এর পরেই আছে জার্মানি। বিশ্বে সামরিক খাতে মোট ব্যয়ের আড়াই শতাংশ জার্মানির আর ২ দশমিক ৪ শতাংশ ফ্রান্সের। ইউক্রেনের জন্য দেশগুলোর দেওয়া সহায়তাও এ খরচের আওতাভুক্ত।

গবেষক টিয়ান বলেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অনুদান দিয়েছে। দেশটিকে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্স ও জার্মানির তুলনায় এখানে তারা বেশি খরচ করেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনকে ফ্রান্স ও জার্মানির তুলনায় বেশি সামরিক সহায়তাও দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও গত দশকে সামরিক খাতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ বাড়িয়েছে। অত্যাধুনিক ও দামি অস্ত্র কেনার কারণে ফিনল্যান্ডেও গত বছর সামরিক ব্যয় বেড়েছে। গত বছর দেশটি ৬৪টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনেছে।