গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনি যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। এ জন্য সামরিক অভিযানসহ তাঁর সামনে নানা বিকল্প রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মধ্যেই গত শুক্রবার ট্রাম্প আবারও এ বিষয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা চান বা না চান, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কিছু একটা করবেই।
হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন তেল ও গ্যাস কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমরা না নিলে রাশিয়া ও চীন সেটি দখলে নিতে পারে। আমরা রাশিয়া ও চীনকে আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি একটি চুক্তি করতে চাই। আপনারা জানেন যে সেটাই সহজ পথ। সহজ উপায়ে না হলে আমরা শক্ত হাতে সেটা করতে চাই।’
গত সপ্তাহে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের বিরুদ্ধে আরও চাপ বাড়িয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কীভাবে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে পারেন?
ট্রাম্প কি গ্রিনল্যান্ডবাসীকে অর্থ দেওয়ার কথা ভাবছেন
গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। বিকল্প হিসেবে তাঁদের প্রত্যেককে অর্থ দেওয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর প্রায় ৮০ শতাংশ হিমবাহে আচ্ছাদিত। রাজধানী নুক সবচেয়ে জনবহুল এলাকা। জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বসবাস সেখানে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেককে ১ লাখ ডলার দেয়, তবে গণভোটের জন্য ৫৬০ কোটি ডলার খরচ হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা যাতে ডেনমার্ক থেকে আলাদা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেতে রাজি হন, সে জন্য তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন।
গ্রিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ডেনমার্কের একটি অংশ। সেখানে নির্বাচিত সরকার আছে। এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, শাসনব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ বেশির ভাগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এ সরকারের রয়েছে। তবে পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো এখনো কোপেনহেগেনের হাতে।
তবে ২০০৯ সালে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। এখন তাঁদের ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে ওই অর্থ দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেককে ১ লাখ ডলার দেয়, তবে গণভোটের জন্য ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন (৫৬০ কোটি) ডলার খরচ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র কি গ্রিনল্যান্ড ‘কিনতে’ পারবে
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ডেনমার্কের এ অঞ্চল কেনার সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে’ আলোচনা করছে।
সোমবার কংগ্রেসের উভয় কক্ষের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, গ্রিনল্যান্ডে হামলার পরিবর্তে এটি কিনে নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেবেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে রুবিওর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
তবে নুক ও কোপেনহেগেন বারবার বলে আসছে, দ্বীপটি ‘বিক্রি করা হবে না’।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির সঙ্গে তুলনা করার মতো ঘটনা আধুনিক যুগে খুব কমই আছে। এমনই একটি ঘটনা হলো ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নেওয়ার ঘটনা।
১৮০৩ সালে দেড় কোটি ডলারের বিনিময়ে ফ্রান্সের কাছ থেকে লুইজিয়ানা ও ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা কিনেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
১৮০৩ সালে দেড় কোটি ডলারের বিনিময়ে ফ্রান্সের কাছ থেকে লুইজিয়ানা এবং ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা কিনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্স ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের ভূখণ্ড তুলে দিতে আগ্রহী বিক্রেতা ছিল। কিন্তু এর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আজকের অবস্থার মিল নেই।
তবে ওয়াশিংটন অতীতে ডেনমার্কের কাছ থেকেও ভূখণ্ড কিনেছিল। ১৯১৭ সালে উড্রো উইলসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় আড়াই কোটি ডলারে ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিনে নেয়। এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ড নামে পরিচিত।
ট্রাম্প কি সত্যি অর্থ দিয়ে নিজের কাজ হাসিল করতে পারেন
গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের ডেনমার্ক থেকে আলাদা হওয়ার সুযোগ থাকলেও তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন। ২০২৫ সালে ডেনমার্কের সংবাদপত্র বার্লিঙ্গসকের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অর্থনীতিবিদ ও যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাকস বলেছেন, হোয়াইট হাউস গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের কিনতে চায়, কিন্তু তারা গ্রিনল্যান্ডের প্রকৃত মূল্য দিতে পারবে না।
এই অধ্যাপক বলেন, ‘ট্রাম্প মনে করেন, তিনি সস্তায় গ্রিনল্যান্ড কিনতে পারবেন। ডেনমার্ক বা ইউরোপের কাছে এর যে মূল্য, তার বিনিময়ে নয়। এ নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা ডেনমার্ক ও ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য অবমাননার ও হুমকিস্বরূপ।’
ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৯ সালে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা ১২ সদস্যের অন্তর্ভুক্ত। এ জোটের লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্যাকস বলেন, ‘ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে বলা উচিত। এখন পূর্ব দিক থেকে নয়, পশ্চিম দিক থেকে (যুক্তরাষ্ট্র) ইউরোপে হামলার আশঙ্কা অনেক বেশি।’
যুক্তরাষ্ট্র কি আগেও গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করেছিল
হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছিল। ১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড আলাস্কা কেনার সময় গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৮৬৮ সালের মধ্যে তিনি ৫৫ লাখ ডলার মূল্যের সোনার বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড কিনতে চেয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এরপর ১৯১০ সালে ত্রিপক্ষীয় ভূমি বিনিময় নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছিল। আলোচনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করবে—এমন একটি প্রস্তাব ওঠে। বিনিময়ে ডেনমার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অধীন থাকা ফিলিপাইনের কিছু এলাকা দেওয়া হবে; পাশাপাশি জার্মানি থেকে উত্তর শ্লেসভিগও ডেনমার্কে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবারও একটি আনুষ্ঠানিক চেষ্টা করা হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতা পর্যবেক্ষণে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রশাসন দ্বীপটির জন্য ডেনমার্ককে ১০ কোটি ডলারের সোনা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ডেনমার্ক ওই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
যুক্তরাষ্ট্র কি গ্রিনল্যান্ডে হামলা করতে পারে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা ন্যাটো চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করা একটি সম্ভাব্য বিকল্প উপায় হতে পারে।
ন্যাটো সহযোগী ডেনমার্কও বলেছে, এমন কোনো হামলা হলে ন্যাটো জোটের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে।
১৯৫১ সালে ডেনমার্কের সঙ্গে করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সদস্য অবস্থান করছেন।
গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম কোণে পিটুফিক স্পেস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অবস্থান করছে। এটি আগে থুলে বিমানঘাঁটি নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটিতে ওয়াশিংটনকে বাড়তি ‘প্রতিরক্ষা এলাকা’ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
থুলে ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, মহাকাশ নজরদারি মিশন এবং স্যাটেলাইট কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সাহায্য করে।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৬৫০ কর্মী অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে আছে এয়ারফোর্স ও স্পেসফোর্সের সদস্যরাও। কানাডা, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বেসামরিক ঠিকাদারেরাও ওই ঘাঁটিতে থাকেন। ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী ডেনিশ আইন ও করবিধি এ ঘাঁটির মার্কিন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কেরও সেনাবাহিনী রয়েছে। এটির সদর দপ্তর নুকে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও সামরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।
কিন্তু থুলে ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সামরিক বাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সেনাদের ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে খুব বেশি সামরিক প্রতিরোধ কিংবা রক্তপাত ছাড়াই তা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্য কোনো বিকল্প আছে কি
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন, তখন হোয়াইট হাউসে এমন এক ধরনের চুক্তি করা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব ভাগাভাগির একটি বিশেষ কাঠামো নির্ধারণ করবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ‘কমপ্যান্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তি করা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মাইক্রোনেশিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও পালাউর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি আছে। এ রাজনৈতিক চুক্তি অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সিএএফএ চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
তবে এমন চুক্তি করতে হলেও গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে আলাদা হতে হবে।
ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড পেতে মরিয়া
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছেন।গ্রিনল্যান্ডের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা থেকে খুব সহজে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবে। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যকে সংযুক্ত করা জলরাশিতে রাডার স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চায়। এ জলরাশি রুশ ও চীনা জাহাজের একটি প্রবেশপথ। এ কারণে ওয়াশিংটন সেখানে নজরদারি করতে চায়।
এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে দুর্লভ পদার্থ। ২০২৩ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপীয় কমিশনের ‘গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল’ হিসেবে চিহ্নিত ৩৪টির মধ্যে ২৫টি খনিজ গ্রিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দ্বীপটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল ও গ্যাসের মজুত থাকতে পারে।
কিন্তু গ্রিনল্যান্ড এসব তেল ও গ্যাস উত্তোলন করে না। এখানকার খনিজ সম্পদের উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় জনগণের দ্বিমত রয়েছে। বর্তমানে দ্বীপটির অর্থনীতি মূলত মাছ ধরা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।