জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) খাদ্য সরবরাহকারী শীর্ষ দেশগুলোর একটি ইউক্রেন। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যুদ্ধ ও দারিদ্র্যকবলিত দেশগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ করে থাকে সংস্থাটি।

কয়েক মাস ধরে ওদেসাসহ কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো আবারও খুলে দেওয়ার জন্য আহ্বান করে আসছিল ডব্লিউএফপি। ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর জরুরি খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য এমন আহ্বান জানানো হয়। ডব্লিউএফপি বারবার সতর্ক করে আসছে যে লাখো মানুষ ঝুঁকিতে আছে।

ডব্লিউএফপির এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি চুক্তি করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটার দিকে ঐতিহাসিক এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেহ নিকোলেঙ্কো বলেন, ওদেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্রটি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মুখে ভ্লাদিমির পুতিনের ‘থুতু’, যাঁরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। ইউক্রেন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

ওদেসা বন্দরে হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ হামলা ইস্তাম্বুলে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্ততায় করা চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে শস্য রপ্তানির জন্য করা চুক্তির অধীনে রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

গতকালে চুক্তির শর্ত অনুসারে, শস্যের চালান ট্রানজিটে থাকাকালীন রাশিয়া বন্দরগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করতে সম্মত হয়েছে।

ইউক্রনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেহ নিকোলেঙ্কো বলেন, ওদেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্রটি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মুখে ভ্লাদিমির পুতিনের ‘থুতু’, যাঁরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। ইউক্রেন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
তবে এ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। এরপর কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। এতে বৈশ্বিক খাদ্যের সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এর পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। খাদ্য ও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গতকালের চুক্তির অধীনে ইউক্রেনের বৃহত্তম রপ্তানিবন্দর ওদেসাসহ তিনটি বন্দর উন্মুক্ত করা হবে। গত সপ্তাহে কূটনীতিকেরা বলেছিলেন, চুক্তির আওতায় পোতাশ্রয়ে শস্যের চালানগুলো যৌথভাবে তল্লাশি করে দেখা হবে। রাশিয়ার উদ্বেগ, ইউক্রেনে অস্ত্র চোরাচালানের জন্য নৌপথ ব্যবহৃত হতে পারে।

ওদেসা বন্দরে দুই কোটি টন শস্য আটকে রয়েছে। এ ছাড়া রুশ সেনাদের বাধার মুখে বেশ কিছু জাহাজ আটক পড়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, বর্তমান খাদ্যসংকট দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের শীর্ষ দুই গম রপ্তানিকারক দেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের দাম জানুয়ারি থেকে ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে আছে।

গতকাল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, এ চুক্তির কারণে শতকোটি মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমরা জাহাজ চলাচল শুরু হতে দেখব এবং অনেক দেশের মানুষই স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারবে।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন