এদিকে একটি কামিকাজে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন জেলেনস্কি। এ ছবি প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘গোলার আঘাত আমাদের ভাঙতে পারবে না।’

অন্ধকারে চার অঞ্চল

বৈদ্যুতিক স্থাপনায় রাশিয়ার হামলার খেসারত ইতিমধ্যেই দিতে হচ্ছে ইউক্রনকে। এরপর রুশ বাহিনীর রাত্রিকালীন হামলার কারণে আরও সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনেরগো জানিয়েছে, রাশিয়ার রাত্রিকালীন হামলার কারণে কিয়েভসহ চার অঞ্চলে ব্ল্যাকআউট (অন্ধকার) করার পথে হাঁটছে তারা। এ কারণে শত শত গ্রাম-শহর অন্ধকারে থাকবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনে রুশ হামলার কারণে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক স্থাপনার ক্ষতির কথা আগেই জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর বৃহস্পতিবার দেশটির পাওয়ার গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনেরগো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ-ঘাটতির কারণে আগে যে পরিমাণ ব্ল্যাকআউট করার পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়ে বেশি ব্ল্যাকআটক করতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনী রাতে হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িক সময়ের জন্য এই পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

ইউক্রেনেরগোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী কিয়েভ শহরে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে হবে। এ ছাড়া চেরনিহিভ, চেরকাসি, ঝিতোমির ও কিয়েভ অঞ্চলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেন সরকার জানিয়েছিল, তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ শতাংশ কমে গেছে। এতে ব্ল্যাকআউট করতে হচ্ছে। তবে রুশবাহিনীর নতুন রাত্রিকালীন হামলার কারণে ঠিক কত ঘণ্টা নতুন করে ব্ল্যাকআউট চলবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেন ও ইউরোপের বর্তমান পরিস্থতি তুলে ধরে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার শুক্রবার বলেন, মস্কোর সঙ্গে জার্মানির অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের যে সম্ভাবনা ছিল, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার এই অভিযান ইউরোপকে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের ইউরোপ নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা শেষ হয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করেছেন ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বর্তমানের রাশিয়ার দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব, পুরোনো সেই স্বপ্নের কোনো জায়গা সেখানে নেই।’ তিনি আরও বলেন, কঠিন এবং এলোমেলো সময় আসছে সামনে।