রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ট্যাংক সরবরাহ করার জন্য যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে জার্মানি। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, ‘আমরা এখনো বলতে পারি না, কখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সিদ্ধান্ত কী হবে। লেপার্ড ট্যাংকের কথা ওঠার পর এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জার্মানির তৈরি লেপার্ড–২ ট্যাংক চায় ইউক্রেন। বেশ কয়েকটি মিত্রদেশ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সুরে সুর মিলিয়ে বলেছে, জার্মানির ট্যাংকগুলো ইউক্রেনের চেয়ে ক্ষমতায় অনেক বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধে খুব দরকার।

গতকাল লাটভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডগারস রিংকেভিক্স তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি যৌথ বিবৃতি টুইট করেছেন। সেখানে তাঁরা ‘এখনই ইউক্রেনকে লেপার্ড ট্যাংক সরবরাহ করার’ জন্য জার্মানিকে আহ্বান জানিয়েছেন। রিঙ্কেভিক্সের একটি টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘রুশ আগ্রাসন বন্ধ করতে, ইউক্রেনকে সাহায্য করতে এবং দ্রুত ইউরোপে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য এটি প্রয়োজন। ইউরোপের বড় শক্তি হিসেবে জার্মানির এ বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব আছে।’

বার্লিনের ওপর মিত্রদের চাপ

লেপার্ড ট্যাংক সরবরাহ নিয়ে জার্মানিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বার্লিনে কয়েক শ মানুষ জার্মানিকে ইউক্রেনে ট্যাংক পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে ফেডারেল চ্যান্সেলারি ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন।

ইউক্রেনে ট্যাংক পাঠানো বা অন্য দেশগুলোকে জার্মানির তৈরি ট্যাংক সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে জার্মানি এখন বেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকের প্রতিবেদন অনুসারে, জার্মানি লেপার্ড–২ পাঠাতে সম্মত হবে, যদি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের আব্রামস ট্যাংক সরবরাহ করে। তবে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অসুবিধার কারণে আব্রামস ট্যাংক সরবরাহ করলে, তাতে কোনো কাজ হবে না।

গত শুক্রবার ইউক্রেন কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ৫০টি দেশ একত্র হয় জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে। বৈঠকের আগে প্রত্যাশা ছিল, জার্মানি লেপার্ড ট্যাংক ইউক্রেনকে দিতে রাজি হবে, তবে তা হয়নি।