রাজনৈতিক বিভেদ কীভাবে রাতারাতি ভাগ করে দিল বার্লিন শহরকে

দুই জার্মানিকে পৃথক করে দিতে ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট নির্মাণ শুরু হয় বার্লিন প্রাচীরের। পশ্চিম জার্মানির নিয়ন্ত্রণ ছিল পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বের হাতে। অন্যদিকে পূর্ব জার্মানির নিয়ন্ত্রণ ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে। সেই প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আজকের আয়োজন।

বার্লিন প্রাচীর তৈরির কাজে ব্যস্ত একজন শ্রমিকফাইল ছবি: এপি

১৯৬১ সালের ১৩ আগস্টের সকাল। বার্লিনের মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, তাঁদের শহরের মাঝখানে রাতারাতি তৈরি হয়েছে এক নতুন সীমান্ত। যে রাস্তা দিয়ে আগের দিনও মানুষ অবাধে যাতায়াত করেছেন, সেখানে এখন কাঁটাতারের বেড়া। ওপারে পড়ে আছে কারও বাড়ি, কারও কর্মস্থল, কারও প্রিয়জন।

কেউ তখনো ভাবতেই পারেননি, সেই কাঁটাতারের বেড়াই ধীরে ধীরে রূপ নেবে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রাচীরগুলোর একটিতে। যে প্রাচীর প্রায় ২৮ বছর ধরে শুধু একটি শহরকেই নয়, একেকটি পরিবার, বন্ধুত্ব ও স্বাভাবিক জীবনকেও দুই ভাগ করে দেবে।

শীতল যুদ্ধের মঞ্চ বার্লিন

এই প্রাচীর কেন তৈরি হয়েছিল, তা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে। ১৯৪৫ সালের মে মাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি আত্মসমর্পণ করে। যুদ্ধের পর জার্মানির নিয়ন্ত্রণ নেয় চার বিজয়ী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।

মিত্রশক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জার্মানিকে চারটি দখল অঞ্চলে ভাগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স পায় পশ্চিমের তিনটি অঞ্চল। পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।

জার্মানির রাজধানী বার্লিন ভৌগোলিকভাবে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভেতরে ছিল। তারপরও শহরটিকে চারটি অংশে ভাগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নিয়ন্ত্রণ নেয় পশ্চিম বার্লিনের তিন অংশের। পূর্ব বার্লিন থাকে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মিত্রশক্তির মধ্যে জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ দ্রুত বাড়তে থাকে। পশ্চিমা শক্তিগুলো যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছিল।

এই বিরোধ ধীরে ধীরে শুধু দুই পরাশক্তির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ থাকল না। জার্মানিও পরিণত হলো দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে।

১৯৪৯ সালে বিভাজনটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি বা পশ্চিম জার্মানি। একই বছর সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক বা পূর্ব জার্মানি।

একই দেশের মানুষ তখন দুই রাষ্ট্রে বাস করতে শুরু করলেন। আর সেই দুই রাষ্ট্রের মাঝখানে সবচেয়ে অস্বাভাবিক অবস্থানে ছিল বার্লিন।

পূর্ব জার্মানি থেকে লাখো মানুষের পলায়ন

দুই জার্মানির রাজনৈতিক ব্যবস্থা আলাদা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনেও পার্থক্য স্পষ্ট হতে শুরু করে। পশ্চিম জার্মানিতে যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে পূর্ব জার্মানিতে অর্থনীতি ও সমাজজীবনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কঠোর হতে থাকে।

রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। পূর্ব জার্মানিতে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকার রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত।

ফলে পূর্ব জার্মানির অনেক মানুষ পশ্চিম জার্মানিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে পূর্ব জার্মানি একদিকে জনশক্তি হারাচ্ছিল, অন্যদিকে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল।

১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ পূর্ব জার্মানি ছেড়ে পশ্চিমে চলে যান। তাঁদের একটি বড় অংশ বার্লিন হয়ে পশ্চিম জার্মানিতে পাড়ি জমান।

বার্লিন হয়ে ওঠে পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিমে যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি।

আরও পড়ুন

শহরের মাঝখান দিয়েই ছিল পথ

পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ক্রমে কঠোর করা হলেও বার্লিনের পরিস্থিতি ছিল আলাদা। পশ্চিম বার্লিন ছিল পূর্ব জার্মানির ভেতরে পশ্চিমা শক্তির নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকা।

ফলে পূর্ব জার্মানির কেউ পশ্চিম বার্লিনে পৌঁছাতে পারলে সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। এই পথ দিয়ে মানুষের দেশত্যাগ পূর্ব জার্মান সরকারের জন্য ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে ওঠে।

১৯৬১ সালের মাঝামাঝি পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পূর্ব জার্মানি থেকে মানুষের দেশত্যাগ বেড়ে যায়। সোভিয়েত নেতৃত্বও আশঙ্কা করছিল, এই জনস্রোত পূর্ব জার্মানির স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—পশ্চিম বার্লিনের সঙ্গে পূর্ব বার্লিনের চলাচলের পথ বন্ধ করতে হবে।

গোপনে নেওয়া হলো সিদ্ধান্ত

পূর্ব জার্মানি থেকে মানুষের পশ্চিমে চলে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়ে সোভিয়েত নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন পূর্ব জার্মানির নেতা ভাল্টার উলব্রিখট।

১৯৬১ সালের জুনে ভিয়েনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সঙ্গে বৈঠকের পর সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভও বার্লিন সংকট নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেন। পূর্ব জার্মানি থেকে মানুষের ক্রমবর্ধমান দেশত্যাগ এবং পশ্চিম বার্লিনের অবস্থান নিয়ে সোভিয়েত নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়ছিল।

শেষ পর্যন্ত ক্রুশ্চেভ পূর্ব জার্মানির নেতা উলব্রিখটকে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মধ্যকার চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে নির্দেশ দেন। এরপর বার্লিন নির্মাণের পরিকল্পনা কঠোর গোপনীয়তায় এগিয়ে নেওয়া হয়।

১২ আগস্ট রাতে পূর্ব জার্মানির পুলিশ, সীমান্তরক্ষী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বার্লিনের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সীমান্তে অবস্থান নেন। ১৩ আগস্ট ভোর হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও যোগাযোগপথ। সীমান্তজুড়ে বসানো হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বার্লিনের মানুষ বুঝতে পারেন, তাঁদের পরিচিত শহরটি আর আগের মতো নেই।

এক রাতেই বদলে গেল মানুষের জীবন

শুরুতে ছিল কাঁটাতারের বেড়া। পরবর্তী দিন ও মাসগুলোতে কাঁটাতারের জায়গায় তৈরি হতে থাকে কংক্রিটের দেয়াল ও আরও কঠোর সীমান্তব্যবস্থা।

পরবর্তী ২৮ বছরে এই সীমান্তব্যবস্থা বারবার পরিবর্তন ও শক্তিশালী করা হয়। তৈরি হয় দেয়াল, নজরদারি টাওয়ার, টহলপথ, কাঁটাতার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

ধীরে ধীরে বার্লিন প্রাচীর শুধু একটি দেয়াল থাকল না, এটি পরিণত হলো একটি বিশাল সীমান্তব্যবস্থায়।

এই দেয়াল নির্মাণের ফলে অনেক পরিবার একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। থমকে যায় বহু মানুষের স্বাভাবিক জীবন।

কত বড় ছিল সেই প্রাচীর

পশ্চিম বার্লিনকে ঘিরে থাকা পুরো সীমান্তব্যবস্থার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৫৫ থেকে ১৫৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মধ্যকার শহুরে সীমান্ত ছিল প্রায় ৪৩ কিলোমিটার।

দেয়ালের সবচেয়ে পরিচিত অংশ ছিল প্রায় চার মিটার উঁচু কংক্রিটের দেয়াল। এর সঙ্গে ছিল নজরদারি টাওয়ার, টহলপথ, কাঁটাতার ও অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা।

১৯৮৯ সালে এই দেয়াল পতনের সময় পশ্চিম বার্লিন ঘিরে থাকা সীমান্তব্যবস্থায় ৩০২টি নজরদারি টাওয়ার ছিল। এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিমে পালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

দেয়াল পেরোনোর চেষ্টায় প্রাণ যায় অনেকের

দেয়াল তৈরি হওয়ার পরও পশ্চিমে যাওয়ার চেষ্টা থামেনি। মানুষ নানা উপায়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

কেউ সুড়ঙ্গ খুঁড়েছেন। কেউ কাঁটাতার পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করেছেন। আবার কেউ ভবনের জানালা ব্যবহার করে পশ্চিমে যাওয়ার পথ খুঁজেছেন।

এসব চেষ্টা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৬১ সালের ২৪ আগস্ট গুন্টার লিটফিন নামের এক তরুণ পূর্ব বার্লিন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় গুলিতে নিহত হন। তিনি ছিলেন বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের পর সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় নিহত প্রথম ব্যক্তি। পরবর্তী ২৮ বছরে প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট সীমান্তব্যবস্থা পার হওয়ার চেষ্টায় শতাধিক মানুষ নিহত হন।

পশ্চিম বার্লিনে বসবাসকারী মানুষ পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে পূর্ব বার্লিনের মানুষ বাস করতেন পূর্ব জার্মানির সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীন।

দেয়ালের দুই পাশের মানুষ একই ভাষায় কথা বলতেন, একই শহরের ইতিহাসের অংশ ছিলেন। তাঁদের অনেকের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু ছিলেন বিপরীত পাশে।

কিন্তু একটি দেয়াল তাঁদের দৈনন্দিন সম্পর্ককে বদলে দিয়েছিল। কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না। কেউ নিজের পুরোনো বাড়ির কাছে থেকেও সেখানে যেতে পারতেন না। আবার কারও কর্মস্থল ছিল শহরের অন্য পাশে; কিন্তু সেখানে যাওয়া হয়ে পড়েছিল অসম্ভব।

বার্লিন প্রাচীর শুধু পূর্ব ও পশ্চিমকে আলাদা করেনি, এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও তৈরি করেছিল এক অদৃশ্য ক্ষত।

পূর্ব ইউরোপে বদলের হাওয়া

১৯৮০-এর দশকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষও বাড়তে থাকে।

পূর্ব জার্মানিতেও মানুষ আরও বেশি স্বাধীনতা ও চলাচলের অধিকার দাবি করতে শুরু করেন। হাজার হাজার মানুষ পূর্ব জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে হাঙ্গেরি ও তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার পথ ব্যবহার করে পশ্চিমে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

একসময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, পূর্ব জার্মান সরকারের পক্ষে মানুষের ওপর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

যে রাতে খুলে গেল সীমান্ত

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর পূর্ব জার্মানির সরকার নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত নতুন নিয়ম ঘোষণা করে।

সরকারের মুখপাত্র গুন্টার শাবোভস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিয়ম সম্পর্কে কথা বলার সময় বলেন, এটি কার্যকর হবে ‘অবিলম্বে’। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হাজার হাজার মানুষ বার্লিন প্রাচীরের বিভিন্ন সীমান্ত ফটকে জড়ো হতে শুরু করেন। সীমান্তরক্ষীরা প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন। শেষ পর্যন্ত ফটক খুলে দেওয়া হয়।

পূর্ব বার্লিনের মানুষ পশ্চিম বার্লিনে প্রবেশ করতে শুরু করেন। পশ্চিম বার্লিনের মানুষও তাঁদের স্বাগত জানাতে সীমান্তে ছুটে আসেন। প্রায় ২৮ বছর পর বার্লিনের বুকের সেই বিভাজন বাস্তবে অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সীমান্ত খুলে যাওয়ার পর মানুষ নিজেরাই দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন। হাতে হাতুড়ি নিয়ে অনেকে কংক্রিটের দেয়ালে আঘাত করতে থাকেন। কেউ দেয়ালের ওপর উঠে উল্লাস করেন। কেউ ওপারের মানুষকে জড়িয়ে ধরেন। বহু বছর পর পরিবার ও বন্ধুরা আবার একে অপরের কাছে ফিরে আসেন।

তবে ৯ নভেম্বর রাতেই পুরো দেয়াল ধ্বংস হয়ে যায়নি। এরপর কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে সীমান্তব্যবস্থা সরানো হয়। বার্লিনের অভ্যন্তরীণ দেয়াল সরানোর কাজ ১৯৮৯ সালের ১০ নভেম্বর নতুন সীমান্ত ফটক খোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং ১৯৯০ সালের ৩০ নভেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। বার্লিনের আশপাশের শেষ অংশগুলো ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সরানো হয়।

বার্লিন প্রাচীর পতনের পর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একীভূত হওয়ার পথ খুলে যায়। এর মাত্র ১১ মাসের মধ্যে, ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর, পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে একত্র হয়। গড়ে ওঠে আজকের জার্মানি।

বার্লিন প্রাচীর এখন আর আগের মতো শহরটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে নেই। তবে এর কিছু অংশ এখনো সংরক্ষিত আছে।

আরও পড়ুন