ঋষি সুনাক সরকারের তোলা ওই বিলের নাম লেভেলিং-আপ অ্যান্ড রিজেনারেশন বিল। বিতর্কের জন্য আজ বুধবার বিলটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে তোলার কথা রয়েছে। বিতর্ক শেষে আগামী সোমবার বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বিলটির বিরোধিতা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ৪৭ সংসদ সদস্য। তাঁরা বিলের একটি সংশোধনী প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। স্থানীয় কাউন্সিলের ওপর সরকারের বাধ্যতামূলক গৃহনির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ার বিরোধিতা করছেন তাঁরা।

নিজ দলের প্রায় অর্ধশত এমপির বিরোধিতার কারণে চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এখন তাঁর পক্ষে মাত্র ৬৯ জন কনজারভেটিভ এমপি সমর্থন দিচ্ছেন। লেবার পার্টিসহ পার্লামেন্টে অন্য বিরোধী দলের এমপিরা যদি বিদ্রোহী টোরি এমপিদের পক্ষ নেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত বিলটি পাসে ব্যর্থ হবেন ঋষি সুনাক।

তবে নিজ দলের মধ্যে বিদ্রোহের মুখে পড়ায় সরকার বিলটি নিয়ে ধীর গতিতে এগোতে চাইছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আজ বুধবার বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক হলেও আগামী সোমবার বিল নিয়ে পার্লামেন্টে যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না।

সুনাক সরকারের লেভেলিং-আপবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ বিষয়টি নিয়ে বিদ্রোহী এমপিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আসছে বড়দিনের আগে (২৫ ডিসেম্বর) বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির আশা করছে সরকার।

গৃহনির্মাণ নিয়ে ঋষি সুনাক সরকারের আনা বিলের ভোটাভুটি পেছানোর ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বিভাজিত কনজারভেটিভ এমপিদের নিয়ে সরকার চালাতে জটিলতার মুখে পড়েছেন ঋষি সুনাক। কনজারভেটিভদের মধ্যে এ বিভাজন যে সরকারকে কোন পথে নিয়ে যেতে পারে, তার উদাহরণ গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি সরকারের পতন। তবে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি পেছানোর মাধ্যমে সরকার অবশ্য সম্ভাব্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করার সময় পাবে।