গোল্ডফিশ যখন গাড়িচালক

অ্যাকুয়ারিয়ামে ভেসে থাকা মাছটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় গাড়ির গতি উৎপাদন করেছবি: ভিডিও থেকে

ছোট একটি গাড়ি। তাতে ছোট ছোট চারটি চাকা। তার ওপর বসানো ছোট একটি অ্যাকুয়ারিয়াম। এতে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি গোল্ডফিশ। শুধু ভেসে বেড়ানো নয়, সোনালি রঙের সেই মাছ ওই গাড়িটি চালাচ্ছে—এমন কথা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। আদৌ কি এটা সম্ভব? কিন্তু এমনই এক ঘটনা বাস্তবে দেখা গেল।

নেদারল্যান্ডসের কম্পিউটার প্রকৌশলী থমাস ডি উলফ এই ঘটনাকে বাস্তব করে দেখিয়েছেন। তিনি এমন একটি গাড়ি উদ্ভাবন করেছেন, যার চালক অ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা একটি গোল্ডফিশ। এ নিয়ে গত শুক্রবার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, গোল্ডফিশ হতে পারে আপনার পরবর্তী উবারচালক!

ওয়েবসাইটে থাকা ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ির ওপর পানিভর্তি অ্যাকুয়ারিয়ামে ভেসে থাকা মাছটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় গাড়ির গতি উৎপাদন করে। এতে গাড়িটি চলতে শুরু করে। এক মিনিটে গোল্ডফিশটি ১২ দশমিক ২৮ মিটার বা প্রায় ৪০ ফুট ৩ দশমিক ৪৬ ইঞ্চি পথ চলার রেকর্ড গড়েছে।

দেখা গেছে, গোল্ডফিশটি অ্যাকুয়ারিয়ামের যেদিকে ভেসে যাচ্ছে, গাড়িটিও সেদিকে চলতে শুরু করেছে। এতে দেখে মনে হয়, আদতেই গাড়িটি ওই গোল্ডফিশ চালাচ্ছে। ইতালির মিলানে একটি টিভি অনুষ্ঠানে গোল্ডফিশের ‘গাড়ি চালানোর’ এ দৃশ্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। উদ্ভাবক থমাস বলেন, ‘সাধারণত আমার কাজকর্ম বেশ একঘেয়ে। তাই আমি এমন কিছু উদ্ভাবন করতে চেয়েছিলাম, যেটা মানুষকে মজা দেবে, বিনোদন দেবে; আমার গুরুত্বপূর্ণ কাজকে মজাদার কিছুতে পরিণত করবে।’

থমাস আরও বলেন, ‘আমার এ কাজের উদ্দেশ্য হলো, এ ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে আদতে কী করা সম্ভব, সেটা মানুষকে দেখানো। যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ না-ও হয়, তখনো।’

ইতালির ওই টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলা হয়, এ ধরনের প্রযুক্তি আগামী দিনগুলোতে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের আরও নির্বিঘ্নে চলাচলের কাজে সহায়তা করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।