২০১৯ সালের পর থেকে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন এরদোয়ান। এর আগে গত মাসে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে পুতিন ও এরদোয়ানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাশিয়ার সহযোগিতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার শস্য রপ্তানির চুক্তি সই হওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে প্রথম বৈঠক হচ্ছে এরদোয়ানের। ইউক্রেন ও রাশিয়ার চুক্তির মাধ্যমে এরদোয়ানের আন্তর্জাতিক কৃতিত্ব আরও জোরদার হয়েছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ইয়ুপ এরসয় বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য চুক্তিতে ভূমিকার কারণে তুরস্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সফল দেশ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস সম্পর্কগত অসামঞ্জস্যকে তুরস্কের পক্ষে এনেছে। তুরস্কের নীতি ও উদ্যোগ বিষয়ে রাশিয়ার যেসব উদ্বেগ ছিল, তা কিছুটা কমিয়েছে।

বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য হবে উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক অভিযানে মস্কোর সম্মতি আদায় করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে রাশিয়া যেন বিরোধিতা না করে, তা নিশ্চিত করা।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রধান সমর্থক রাশিয়া। দেশটির বেশির ভাগ আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করে আসাদের বাহিনী। এরদোয়ান মে মাসে সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযানের কথা বলেছিলেন। তেহরান সম্মেলনেও এরদোয়ান বলেছিলেন, সিরিয়া থেকে তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ২০১৬ সাল থেকে চারবার সিরিয়ার হামলা করেছে তুরস্ক। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুতিনের কাছ থেকে সবুজ সংকেত চাইছেন এরদোয়ান।

এ ছাড়া তুরস্ক দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। গত বুধবার দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী বছরের জুনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্রেমলিন এই অস্থিরতা কমাতে পারে, বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে এরদোয়ানের দুশ্চিন্তা কমাতে পারে। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল তুরস্ককে রাশিয়া গত বছর তার গ্যাসের চাহিদার ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন