যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রথমবার বসছে রাশিয়া–ইউক্রেন–যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ২২ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার প্রথমবারের মতো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তগুলো চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি চুক্তিও প্রায় প্রস্তুত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনাকে জেলেনস্কি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ভালো।’

প্রস্তাবিত এই আলোচনার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ‘ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি রাশিয়ার শুরু করা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানচেষ্টাকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে। আলোচনা এখন একটি শেষ ইস্যুতে এসে ঠেকেছে।

গতকাল দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে উইটকফ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা এখন আলোচনাকে একটি বিষয়ে নামিয়ে এনেছি। আমরা সেই বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আর তার মানে হলো, এটি সমাধানযোগ্য।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত আরও বলেন, ‘যদি দুই পক্ষই এটির সমাধান চায়, তাহলে আমরা অবশ্যই সমাধান করতে পারব।’

পরে উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় যান। তাঁদের মস্কো যাওয়ার উদ্দেশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করা।

উইটকফ বলেন, এরপর মার্কিন কর্মকর্তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যাবেন। আবুধাবিতে সামরিক পর্যায়ে (মিলিটারি টু মিলিটারি) ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে আলোচনা চলবে।

জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ ও কাল এই দুই দিন আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এটা এই তিন পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের উদ্দেশে তাঁর (ট্রাম্প) বার্তাটি হলো ‘ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ হতে হবে।’

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ ও বিষয়বস্তুনিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখন নথিগুলো আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও যুদ্ধ–পরবর্তী পুনর্গঠনের অর্থায়নসহ প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ থাকলেই কেবল তিনি দাভোস যাবেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে পুতিনের বিচার হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার বাজেয়াপ্ত সম্পদগুলো তারা (ইউরোপীয় মিত্ররা) ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় এই যুদ্ধের চতুর্থ বছর চলছে বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, যিনি (পুতিন) এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তিনি শুধু মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করছেন তা নয়; বরং ইউরোপে তাঁর বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুদ্ধ শেষ করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করেছে। তবে ট্রাম্পের বারবার চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেন এখনো রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে থাকায় দেশটির সামরিক সহায়তার প্রয়োজন রয়ে গেছে।