ক্ষমা চাইলেন এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ৮ ফেব্রুয়ারি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। কাহরামানমারাস, তুরস্ক
ফাইল ছবি : এএফপি

ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে দেরি হওয়ায় ক্ষমা চাইলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আজ সোমবার ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি আদিয়ামান পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে তিনি ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চান।

এরদোয়ান বলেন, ‘ভূমিকম্পের বিধ্বংসী প্রভাব ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা আদিয়ামানে প্রথম দিকে যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে পারিনি। এ জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’

৬ ফেব্রুয়ারির সেই ভূমিকম্পের চার দিন পর আদিয়ামানে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে সরকারের গাফিলতির অভিযোগ করে বিক্ষোভ করেছিলেন।
তখন আদিয়ামানের এক বাসিন্দা মেহমেত ইলদিরিম এএফপিকে বলেছিলেন, ‘ভূমিকম্পের দ্বিতীয় দিন বেলা দুইটা পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি। না সরকার, না রাষ্ট্র, না পুলিশ, না সেনা। আপনাদের ধিক্কার জানাই। আপনারা আমাদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।’

গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে ধসে পড়া কিংবা মারাত্মক রকমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি
ফাইল ছবি: এএফপি

ভূমিকম্পের পরপরই, এরদোয়ান বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের ত্রুটি ছিল বলে স্বীকার করেছিলেন।

দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পর এরদোয়ান আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসতে চান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন এ বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

আরও পড়ুন

ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতা জনমনে যে রোষের জন্ম দিয়েছে, তাতে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রভাব কী পড়তে পারে, তা নিয়ে এরদোয়ানের দলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্যান দিয়াগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক আহমেত তে কুরু এশিয়া টাইমসকে বলেন, ভূমিকম্পের আগে থেকেই এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছিল। অর্থনৈতিক সংকট ও এরদোয়ানের স্বৈরতান্ত্রিক ধরনের শাসনের ওপর ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে ভোটারদের মধ্যে (বিশেষ করে তরুণ ভোটার) তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে। ভূমিকম্পের পর দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে যে রাজনৈতিক বেকায়দায় পড়েছে এরদোয়ান সরকার, তা কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে ইতিমধ্যে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর ভূমিকম্পে ধসে পড়া কিংবা মারাত্মক রকমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। এগুলোতে ৫ লাখ ২০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট ছিল।