হ্যারি-মেগানের সংসার টানাপোড়েনের মুখে

প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিগগিরই নিজ দেশ যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি। তবে এ সফর তিনি একাই করবেন, থাকবেন না স্ত্রী মেগান মার্কেল বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পুলিশি সুরক্ষার জন্য আবেদনের পর সবুজ সংকেত পেয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হ্যারি।

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে হ্যারির সফরে মেগান থাকছেন না কেন? সূত্র জানিয়েছে, মেগান যুক্তরাষ্ট্রে নিজের মতো জীবন কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। চলতি বছরেই হ্যারি দেশে ফেরার পর স্বামীর থেকে আলাদা থাকার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। হ্যারির দেশে ফেরার জন্য মরিয়া মনোভাব এখন তাঁর দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বড় টানাপোড়েনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহু দিন ধরেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কে ভাঙন চলছিল। তবে বাবা চার্লস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেই ফাটল আবার জোড়া লাগতে শুরু করে। এরই মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে লন্ডনের ক্লারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাজ্যে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে পরিবারের সঙ্গে আবার সম্পর্ক মজবুত করার দিকে নজর দিয়েছেন হ্যারি।

হ্যারি ও মেগানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রাডারকে বলেন, হ্যারির যুক্তরাজ্যে ফেরার তাগিদের কারণে দুজনের সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। মানসিক ও ভৌগোলিক—দুভাবেই তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। তবে এই ভাঙন তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার অভাব বা কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে নয়।

সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে থাকাকালে নিজের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সময়গুলো নিয়ে সচেতন মেগান। হ্যারির সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফেরার চিন্তা করলে তাঁর সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। সে কারণে তিনি স্বামীর সঙ্গে ফিরতে অনিচ্ছুক। অপরদিকে হ্যারি তাঁর বাবার ক্রমেই অবনতি হওয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত। তিনি মনে করেন, বাবার সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগ দ্রুত হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।