এলএফআইয়ের অনেক এমপি পার্লামেন্টে টাই পরে আসা পছন্দ করেন না। এ নিয়ে কিছু ডানপন্থী এমপি শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আদ্রিয়েন কাটেনেন্সের মতো এলএফআইয়ের সুপরিচিত তরুণ এমপিদের অনেকেই বলতে গেলে সব সময় টাই ছাড়া থাকেন।

পার্লামেন্টে ‘টাই পরার বাধ্যবাধকতা’ আরোপের দাবি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন ডানপন্থী রিপাবলিকান এমপি এরিক সিওটি। নির্দিষ্ট কিছু এমপির, বিশেষ করে, এলএফআইয়ের এমপিদের পার্লামেন্টে আরও বেশি মাত্রায় ঘরোয়া (ক্যাজুয়াল) পোশাক পরার সুযোগ ঠেকাতে তিনি এই চিঠি দিয়েছেন।

টাই পরিধান ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ও আমাদের জনগণের জন্য সম্মানের নিদর্শন’ বলে বর্ণনা করেন ডানপন্থী এই এমপি। এদিকে এলএফআই এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে গতকাল শুক্রবার তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, অধিবেশনে ‘পোশাক ডেপুটি (এমপি) বানায় না।’

এলএফআইয়ের সুপরিচিত এমপি ম্যাচিলদে প্যানোট ও অ্যালেক্সিস কোরবিয়েরে স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এমপিদের অবশ্যই জনগণের অবস্থা, তাদের আশা ও ক্ষোভকে তুলে ধরা উচিত। অবশ্যই তাঁরা নিজেদের যেন দূরে সরিয়ে না নেন।

তাঁদের যুক্তি, ২০২২ সালে এসে টাই পরিধান করা স্মার্ট পোশাকের কিছু বোঝায় না, বরং এটি ‘বিশেষ সামাজিক গোষ্ঠীর’ সঙ্গেই বেশি সম্পর্কিত। আগের পার্লামেন্টে এমপিদের টাই ছাড়াই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এলএফআইয়ের এমপি লুই বয়ার্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হওয়া জামা’ পার্লামেন্টে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু এমপি ‘ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে ওঠা’ পোশাক পরছেন।
বামপন্থী এমপিদের ‘নোংরা, জোড়াতালি (পোশাকের) বাম ও সবখানে হইচই সৃষ্টিকারী’ বলে তিরস্কার করেছেন ডানপন্থী এমপি রেনদ মুসেলিয়ের। তাঁদের ‘আচরণগত সমস্যা’ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমপিদের কী ধরনের পোশাক পরা উচিত, সে বিষয়ে পার্লামেন্ট বিধিতে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে ‘ফরমাল পোশাকে’ থাকতে কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণত বিজনেস স্যুট তথা স্যুট-কোট-টাই ধরনের পোশাককেই বোঝায়।

গত মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভালো করেছে এলএফআই ও এনইউপিইএস। এতে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় মাখোঁর সরকার। এখন প্রতিটি বিল পাসে আলাদা করে সমঝোতায় যেতে হচ্ছে সরকারকে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন