শান্তিচেষ্টার মধ্যেই কিয়েভে হামলা

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছেন এক পুলিশ সদস্য।
কিয়েভ, ইউক্রেন ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় আফ্রিকার নেতারা যখন কিয়েভ সফর করছেন, তখনই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এই রাজধানী শহর। গতকাল শুক্রবার সকালে কিয়েভে পরপর দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেন বলছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা এটি। মস্কো শান্তি চায় না, আরও যুদ্ধ চায়।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আফ্রিকার প্রতি বার্তা—রাশিয়া আরও যুদ্ধ চায়, শান্তি নয়।
দিমিত্রো কুলেবা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউক্রেন

শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আফ্রিকার নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল কিয়েভে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, সেনেগাল, জাম্বিয়া ও কমোরোসের নেতারা রয়েছেন। গতকালই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক করার কথা ছিল।

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর আফ্রিকার প্রতিনিধিদলটির আজ শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। সেন্ট পিটার্সবার্গে এই বৈঠক হবে।

কিয়েভের মধ্যাঞ্চলে অবস্থানরত রয়টার্সের এক সাংবাদিক গতকাল সকালে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোও মধ্যাঞ্চলীয় পোদিল জেলায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছেন।

রয়টার্সের আরেক সাংবাদিক রাজধানীর আকাশে দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়া দেখতে পান। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি রাশিয়া ছুড়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রেসিডেন্ট পুতিন আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং আছেন।
দিমিত্রি পেসকভ, মুখপাত্র, রাশিয়া

রয়টার্স জানায়, গাড়িবহর নিয়ে আফ্রিকার নেতাদের প্রতিনিধিদল কিয়েভে পৌঁছায়। বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে প্রতিনিধিদলটি একটি হোটেলে অবস্থান নেয়। পরে প্রতিনিধিদলে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এক টুইটে বলেন, শান্তি মিশনের কার্যক্রম ভালোভাবে পরিকল্পনা মোতাবেক এগোচ্ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা টুইটারে লিখেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আফ্রিকার নেতাদের কিয়েভ সফরের সময় এই হামলা চালানো হলো। তিনি বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আফ্রিকার প্রতি বার্তা—রাশিয়া আরও যুদ্ধ চায়, শান্তি নয়। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।

বুচা পরিদর্শন

কিয়েভের উপকণ্ঠে বুচা শহর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সফর শুরু করেন আফ্রিকার নেতারা। ইউক্রেন বলছে, এই শহর দখল করে স্থানীয় ব্যক্তি হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল রুশ বাহিনী। আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলো শহরটি থেকে যুদ্ধাপরাধের আলামত সংগ্রহ করছে। তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই শান্তি মিশনে রামাফোসা ছাড়াও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল রয়েছেন। মধ্যস্থতার প্রাথমিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁরা ‘আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপের’ বিষয়ে প্রস্তাব দিতে পারেন।

রয়টার্স এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবনার নথি দেখতে পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই মিশনের উদ্দেশ্য শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি পক্ষগুলোকে উৎসাহিত করা।

আলোচনায় প্রস্তুত পুতিন

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আলোচনার যেকোনো উদ্যোগে সাড়া দিতে প্রস্তুত আছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন সমস্যার সমাধানের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য যেকোনো উদ্যোগে সাড়া দিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং আছেন।

রাশিয়া সব সময় বলে আসছে, দেশটি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে মস্কো বলছে, এ জন্য মাঠের ‘নতুন বাস্তবতাকে’ অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে কিয়েভকে, যেখানে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় ১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।