যুক্তরাজ্যে পানির ব্যবহারে বিধিনিষেধ
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমের কারণে সুপেয় পানির চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই সেখানকার লাখ লাখ মানুষের বাগানে হোসপাইপ দিয়ে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় কেন্ট ও সাসেক্স অঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্য ২৬ জুন থেকে এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। কারণ গ্রীষ্মে সেখানে খুবই কম বৃষ্টিপাত হবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
সাউথ ইস্ট ওয়াটার জানিয়েছে, প্রতিদিন কোম্পানিটি অতিরিক্ত ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করার পরও জুন মাসে পানির চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
এমনকি শৌচাগারে পানির সংকটে শুক্রবার ইস্ট সাক্সেসে তিনটি স্কুল আংশিক বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী ডেভিড হিনটন বলেন, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার করতে গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারপরও দুঃখজনকভাবে এখন কেন্ট ও সাসেক্সজুড়ে গ্রাহকদের জন্য পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চালু করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
সাউদার্ন ওয়াটার কেন্ট এলাকায় পানি সরবরাহ করে। কোম্পানিটি গতকাল বৃহস্পতিবার সতর্কতা জারি করে বলেছে, কাউন্টির পানির চাহিদা সরবরাহ ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। তারা জানিয়েছে, বছরের এই সময় প্রত্যাশার চেয়ে চাহিদা ১৫ শতাংশ বেশি।
চাহিদা অনেক, সরবরাহ কম
হোসপাইপ দিয়ে বাগানে পানি দেওয়া, ছোটদের গোসল করার প্লাস্টিকের পুলে পানি ভরা বা গাড়ি ধোয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কেউ অমান্য করলে তাঁর ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
অত্যধিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থার মতে, ইংল্যান্ডে গত বছর ২০১৮ সালের মতো গরম ছিল। কাউন্টির কয়েকটি অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাপিয়ে গিয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ডের এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে জলাধারে পানির স্তর নেমে গেছে। স্কটল্যান্ডে স্কটিশ এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন অ্যাজেন্সি (এসইপিএ) প্রতিটি অঞ্চলে পানি ঘাটতির সতর্কতা জারি করেছে। বলেছে এই মাসের শেষ নাগাদ দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানির সংকট হতে পারে।
এসইপিএ-এর পানি পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধান নাথান ক্রিচলো-ওয়াটন বলেন, ‘আমাদের নদী ও লেকগুলোর পানি অনেক কমে গেছে। এগুলোকে রক্ষায় আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন, এটা স্পষ্ট।’