ডায়ানার সেই ‘প্রতিশোধের পোশাক’ নিলামে তোলা হচ্ছে

যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানাফাইল ছবি: রয়টার্স

১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক সন্ধ্যা। প্রিন্সেস ডায়ানা পরেছিলেন কালো রঙের পোশাক। শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট, কাঁধখোলা ছোটখাটো ওই পোশাকের নকশা ছিল দারুণ। বিশেষ এক কারণে পোশাকটি আলাদা একটি নামও পেয়েছিল, ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’। চলতি বছরের শেষের দিকে পোশাকটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হচ্ছে।

ডায়ানা ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। ডায়ানার স্বামী ছিলেন প্রিন্স চার্লস, বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের রাজা। তাঁর কারণেই ওই পোশাকের নাম হয়েছিল ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। কারণ, যে সন্ধ্যায় ডায়ানা পোশাকটি পরেছিলেন, সেদিনই চার্লস তাঁর পরকীয়ার বিষয়টি টেলিভিশনে প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন।

আগামী ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলবে খ্যাতনামা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সদবি’স। চলতি মাসে সেটি লন্ডনে প্রদর্শন করা হবে। তারপর একে একে নেওয়া হবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। সবশেষে নিউইয়র্কে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। পোশাকটির আনুমানিক দাম ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড (১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬৭ হাজার টাকা)।  

রিভেঞ্জ ড্রেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। সে কারণে আগেও একবার পোশাকটি বিক্রি হয়েছিল। সেটি ১৯৯৭ সালের কথা, ডায়ানা তখন বেঁচে ছিলেন। পোশাকটি বিক্রির অর্থ ডায়ানা দান করে দিয়েছিলেন। সেবার এর দাম উঠেছিল ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ড, এখনকার দিনে তা ১ লাখ পাউন্ডের সমান। যে পরিবার পোশাকটি কিনেছিল, তাদের কাছেই এত দিন সেটি ছিল।

ডায়ানের সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’
ছবি: সদবি’সের সৌজন্যে

রিভেঞ্জ ড্রেসের নকশা করেছিলেন ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ান। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা বলেছিলেন, সেদিন সন্ধ্যায় ডায়ানার একটি সাদা গাউন পরার কথা ছিল। তবে তিনি স্বামীর ওপর খুবই রেগে ছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত সাদা গাউন বাদ দিয়ে কালো পোশাক পরেছিলেন। উজ্জ্বল লাল নেইল পলিশও ব্যবহার করেছিলেন। এমনটা আগে কখনোই তাঁকে করতে দেখা যায়নি।

আসলে ডায়ানা ছিলেন খুবই ফ্যাশনসচেতন। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও পোশাকপরিচ্ছদ নিয়ে তাঁর রুচিবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। ২০১৩ সালে জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী রিয়ানা ফ্যাশনবিষয়ক সাময়িকী গ্লামারকে বলেছিলেন, তাঁর প্রতিটি সাজই ছিল দুর্দান্ত। পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন গ্যাংস্টার।