দেড় হাত চওড়া বাড়ি

ওয়ারশর কেরেট হাউসছবি: ঋষভ ওয়াধাওয়ার ইনস্টাগ্রাম ভিডিও থেকে

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে অবস্থিত একটি বাড়ির নাম ‘কেরেট হাউস’। আর দশটা সাধারণ বাড়ির মতো সেটিতেও আছে শোবার ঘর, রান্নাঘর, বসার জায়গা, শৌচাগার আর আলাদা গোসলখানা। বাড়িটি নিয়ে অনলাইনে রীতিমতো হইচই চলছে।

হইচইয়ের কারণ, পুরো বাড়িটি মাত্র ১৫০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত। ওয়ারশে দুটি ভবনের মাঝখানে থাকা সরু এক ফালি জমিতে তৈরি হয়েছে এই কেরেট হাউস। বাড়িটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সরু বাড়ি বলা হচ্ছে। কারণ, বাড়িটির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ৭২ সেন্টিমিটার বা ২৮ ইঞ্চি, অর্থাৎ প্রায় দেড় হাত। আর বাড়ির সবচেয়ে চওড়া অংশের প্রস্থ ১২২ সেন্টিমিটার বা ৪৮ ইঞ্চি। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ দুহাত প্রসারিত করে অনায়াসে বাড়ির সবচেয়ে চওড়া অংশের দুই পাশের দেয়াল ছুঁতে পারবেন।

ব্যতিক্রমী এই বাড়ির নকশা করেছেন পোলিশ স্থপতি ইয়াকুব শেজেসনি। একই সঙ্গে শিল্পকর্ম ও বসবাসের জায়গা হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নির্মিত একটি সমবায় আবাসন ভবন এবং যুদ্ধের আগে নির্মিত সাবেক একটি ইহুদি আবাসিক ভবনের মাঝখানে প্রায় ১৫০ বর্গফুট অব্যবহৃত জায়গায় বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে।

বাড়ির প্রতি সেন্টিমিটার জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাড়ির ভেতর তিনটি স্তরে রয়েছে রান্নাঘর, খাওয়া ও বসার জায়গা, শৌচাগার, কাজের জায়গা এবং শোবার ঘর।

সম্প্রতি ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার ঋষভ ওয়াধাওয়া বাড়িটি ঘুরে দেখেন। তিনি বাড়ির ভেতরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। জায়গা বাঁচানোর জন্য বিশেষ নকশায় কীভাবে বাড়িতে নানা কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা ভিডিওতে তুলে ধরেন তিনি। প্রধান সড়ক থেকে সরাসরি বাড়িতে ঢোকা যায় না, একটি গলি দিয়ে যেতে হয়। সেখানে থাকা ইস্পাতের সিঁড়ি বেয়ে ভবনে প্রবেশ করতে হয়।

বাড়ির নিচের স্তরে প্রবেশপথ। পরের স্তরে রয়েছে শৌচাগার, ছোট রান্নাঘর, বসার জায়গা ও কাজের জায়গা। সেখান থেকে একটি মই বেয়ে ওপরের স্তরে উঠতে হয়। এই স্তরে রয়েছে বিছানা, মাথার কাছে বড় একটি জানালা।

ছোট হলেও বাড়িতে দিনের আলোর অভাব নেই। ইসরায়েলি লেখক এতগার কেরেটের জন্য বাড়িটি তৈরি করা হয়। তিনি এটি কাজের জায়গা এবং মাঝেমধ্যে থাকার জন্য ব্যবহার করেন। অস্বাভাবিক আকার, অবস্থান ও ব্যবহারের কারণে নগর কর্তৃপক্ষ এটিকে বাড়ি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং একটি শিল্পস্থাপনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

হাউস সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন বছর কাজ করার পর ২০১২ সালের অক্টোবরে বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। শহরের অত্যন্ত সরু ও উপেক্ষিত একটি জায়গাকেও যে ব্যবহারযোগ্য স্থাপনায় রূপ দেওয়া যায়, বাড়িটি তারই উদাহরণ।