যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেনের সুরক্ষায় বহুজাতিক বাহিনী পাঠাবে ইউরোপীয় মিত্ররা
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইউক্রেনের সুরক্ষায় একটি ‘রিয়াস্যুরেন্স ফোর্স’ বা নিশ্চয়তামূলক নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে কিয়েভের প্রধান প্রধান ইউরোপীয় মিত্র। এ উদ্যোগকে রাশিয়া–ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্রে (ডিক্লারেশন অব ইনটেন্ট) সই করেছেন। ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনার কথা রয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মঙ্গলবার ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশ বৈঠকে বসে। এই বৈঠকে যোগ দেন জেলেনস্কি। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও।
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান লড়াই বন্ধ হলেও ভবিষ্যতে রাশিয়ার যেকোনো আগ্রাসন কীভাবে প্রতিহত করা যাবে, সে বিষয়ে ইউরোপের এসব দেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা করছে।
ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন–সংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশের কোনো সেনা ইউক্রেনের মাটিতে মোতায়েন করতে দেওয়া হবে না।
কিয়েভের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, নতুন করে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে ন্যাটোর মিউচুয়াল ডিফেন্স চুক্তির পাঁচ নম্বর ধারার মতো কোনো নিশ্চয়তা ছাড়া ইউক্রেন নিরাপদ থাকতে পারবে না।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিশ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, এ বাহিনী কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন স্তরে কমান্ড প্রয়োগ করা হবে—সেসব নির্ধারিত হয়েছে।